বাল্যবিবাহের প্রধান সাক্ষী এমপি, দাওয়াত খেলেন ইউএনও-ওসি!

এ বিয়ে নিয়ে এলাকায় দুই দিন ধরে আলোচনার ঝড় বইছে। মানুষের মুখে মুখে ফিরছে নানা কথা। ব্যাপক গুঞ্জনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, বিয়েতে প্রধান সাক্ষী (উকিল সাক্ষী) হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সাহার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য এ বিয়েতে দাওয়াত খেয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছারোয়ার আলম, বাজিতপুর পৌরসভার মেয়র এহেসান কুফিয়া, কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় চার হাজার মানুষ বিয়েতে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থানার সীমানাঘেঁষা চারবাড়ির দেওয়ানজীবাড়িতে এ বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বিঘ্নেই। কনের বাবার নাম আব্দুল করিম। বর উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজবাহউদ্দিন খান শাফীর ছেলে আমিরুল হক খান শিমুল।
গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ছিল বৌভাত। বরের বাড়ি দিলালপুরের বাগপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৌভাতে নিমন্ত্রিত হয়ে হাজির হয়েছিলেন স্বয়ং উপজেলা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ জেড এম শারজিল হাসান।
পৌরসভার ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) নিয়াজুল ইসলাম জানান, বিয়ের কাবিননামায় দেনমোহর দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা। উকিল সাক্ষী হয়েছেন এমপি সাহেব। তবে এ বিয়ের নিবন্ধন হয়নি। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, কনের বয়স কম সন্দেহ হওয়ায় বিয়ে নিবন্ধন করেননি তিনি। জন্মসনদ হাতে পাওয়ার পর নিবন্ধন করা হবে।
বিয়েতে নিমন্ত্রণ পাওয়া কয়েক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে জানান, বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে তাঁরা বাজিতপুরের ইউএনও, ওসি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রসহ গণ্যমান্য অনেককেই উপস্থিত দেখেছেন। নাম প্রকাশ না করে একজন জানান, এটি নিশ্চিত বাল্যবিয়ে। জেনেশুনে একটি অপরাধমূলক কাজে নিজেকে জড়াবেন না ভেবে দাওয়াত পেয়েও বিয়েতে যাননি তিনি।
কনে প্রাপ্তির এক সহপাঠীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, একটি শিশুকে এভাবে বিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। আবার কেউ কেউ বলেন, 'আইনের লোকজনই যদি আইনকে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান, সাধারণ মানুষের আর কী করার থাকে?' প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অনেকেই নাম-পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাফিউদ্দিন জানান, তাঁর এক অফিস স্টাফের মাধ্যমে তিনি এ বিয়ের ঘটনাটি জেনেছিলেন। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করায় বিয়েটি রোধের ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, 'প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরা যেখানে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে আমি আর কী করতে পারি!'
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সাহা জানান, তিনি এ বিয়েতে দাওয়াত খেয়েছেন। তবে বাল্যবিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কনে বা বরের বাবার সঙ্গে কথা বলাও সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ জেড এম শারজিল হাসান গতকাল শনিবার বৌভাতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'এটা যে বাল্যবিয়ে তা আমি জানতে পারিনি। জানলে বিয়ে ঠেকাতে না পারি, অন্তত ব্যাখ্যা চাইতে পারতাম।'
বিয়ের প্রধান সাক্ষী কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন বরের বাবার মামাতো ভাই। তিনি বিয়ের মূল সাক্ষী হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, কনের বয়স যে কম তা তিনি জানেন না। জানলে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ের আয়োজন করতে দিতেন না।
সংবাদ সূত্র: কালের কন্ঠ/ /2015/02/22/ছবি: ইন্টারনেট থেকে
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/last-page/2015/02/22/190715#sthash.7IljBF5L.dpuf
I went over thіs web site and I think you have a lot
of ǥreat info, saved to mmy bookmarks (:.
my web site: Dr Robi Ludwig ()