এসি (ল্যান্ড) এবং ভূমি অফিসের (তহসিল) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদবী এবং তাদের কাজ সম্পর্কে ধারণা থাকলে আপনার কাজ করাতে সুবিধা হবে।
|•| এসি (ল্যান্ড) এসি (ল্যান্ড) বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের একজন কর্মকর্তা। প্রকৃতপক্ষে তার পুরো পদবী হলো সহকারী কমিশিনার (ভূমি) বা Assistant Commissioner (Land)। তিনি কালেক্টর বা ডিসি এর প্রতিনিধি হিসেবে বিভিন্ন আইনের অধীনে ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ের কাজ করে থাকেন। আপনার ভূমি সংক্রান্ত অধিকাংশ সমস্যার সমাধানের এখতিয়ার বা authority এসি (ল্যান্ড) এর রয়েছে। তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এডিসি (রেভিন্যু) এবং সর্বোপরি ডিসি বা জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করেন।
|•| কানুনগো কানুনগো একজন ২য় শ্রেণীর রাজস্ব কর্মকর্তা। এই পদবীটি সুপ্রাচীন। ফারসি ভাষায় কানুনগো শব্দের অর্থ যিনি আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ বা দক্ষ। কানুনগো মূলতঃ মাঠ পর্যায়ের ভূমি অফিসসমূহ পরিদর্শন করে এসি (ল্যান্ড)কে রিপোর্ট করে থাকেন এবং এসি (ল্যান্ড)কে ভূমি ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করে থাকেন।
|•| সার্ভেয়ার সার্ভেয়ার একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী। সার্ভেয়ার জমি-জমার মাপজোক, নকশা প্রস্তুত ইত্যাদি কাজে অভিজ্ঞ হয়ে থাকেন। কোন জমি নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে এসি (ল্যান্ড) তাকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলে থাকেন।
|•| নামজারি সহকারী নামজারি সহকারী একজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি মূলতঃ এসি (ল্যান্ড) অফিসের মিউটেশন কেস নথি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন। অনেক সময় তিনি মিস কেসের (miscellaneous case) নথিও এসি (ল্যান্ড) এর নিকট উপস্থাপন করে থাকেন।
|•| নাজির নাজিরএকজন ৩য় শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি এসি (ল্যান্ড) অফিসের রেকর্ড রুমের দায়িত্বে থাকেন। নামজারি কেস মঞ্জুরের পর তিনিই মিউটেশন পর্চা ও ডিসিআর সরবরাহ করে থাকে। রেকর্ড কারেকশনের দায়িত্বও তার। এসি (ল্যান্ড) অফিসের রেকর্ড বইসমূহ তার তত্ত্বাবধায়নে থাকে।
|•| চেইনম্যান চেইনম্যান একজন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি সাধারণত জমি মাপার কাজে সার্ভেয়ারকে সহায়তা করে থাকেন।
|•| প্রসেস সার্রভেয়ার প্রসেস সার্রভেয়ার বা জারীকারকও একজন ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী। তিনি মিউটেশন কেস, মিস কেস বা অন্য যে কোন নোটিশ ও চিঠিপত্র জারী করে থাকেন।
লেখক: আইনজীবী ছবি: ইন্টারনেট থেকে
লেখক: মহি শামীম shamim07llb@gmail.com
আইন না জানা কি অপরাধ? এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হ্যাঁ, আইন না জানা অপরাধ। অনেকে আবার মজা করে বলতে পারেন- তবে কি আইনজীবী বা আইনের লোকেরা ছাড়া বাকী সবাই অপরাধী? বিস্তারিত আলোচনা করলে বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। দেশের সর্বোচ্চ আইন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সংবিধানের প্রস্তাবনার চতুর্থ অংশে বলা হয়েছে- "একে রক্ষার, সমর্থনের এবং নিরাপত্তা বিধানের দায়িত্ব দেশের জনগণকে অর্পণ করা হয়েছে।"
আমাদের আইন জানার প্রয়োজন কতটা এখানে নিহিত রয়েছে। আইন যদি নাই জানি তবে আইনের নিরাপত্তা বিধান কিভাবে হবে?
আপনি অপরাধ করছেন কিন্তু আপনি যদি আদালতের কাছে বলেন, এটা অপরাধ সেটা আপনি জানতেন না! এ কথা বলে বা আইনের অজ্ঞতার কারণ দেখিয়ে আপনি কৃত অপরাধের শাস্তি থেকে কোনভাবেই ছাড় পাবেন না। অর্থাৎ রাষ্ট্র ধরে নেয় যে, সংশ্লিষ্ট আইনটি(যে ধরণের অপরাধ সেই আইন) সম্পর্কে নাগরিকরা জানেন। বাস্তবে যদিও মানুষ আইন সচেতন না এবং আইন সম্পর্কে খুব একটা ধারণা রাখেন না । সাধারণত আইন কোন কাজটি অপরাধ আর কোন কাজটি অপরাধ নয় তা খুঁজে বের করে এবং কৃত অপরাধমূলক কাজটির জন্য শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে। অর্থাৎ আইন তৈরীর মূল উদ্দেশ্য মানুষকে সচেতন করা এবং অপরাধ থেকে দূরে রাখা। সমাজে যাতে অপরাধমূলক কর্মকান্ড কম হয় সেদিকে খেয়াল রাখা। কিন্তু অপরাধ করে কেউ অজ্ঞতার দোহাই দিয়ে পার পাবেনা। এজন্যই আমাদের দৈনন্দিন সাধারণ আইনগুলো জানা উচিত। শুধু তাই নয়- আইনের অজ্ঞতার কারণে সাধারণ মানুষই বেশি বিপদে পড়ে, নির্যাতিত ও প্রতারিত হয়, সমাজের প্রভাবশালীদের দ্বারা অন্যায়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। সুতরাং প্রত্যেকটা মানুষকে আইন বিষয়ে সচেতন হতে হবে। জানতে হবে একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে- কি তাঁর জন্য আইন, কি তাঁর অধিকার!
আইন জানলে প্রয়োজনে শাসককেও চ্যালেঞ্জ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে রিট-এর কথা বলা যায়। (দেখুন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৪ এবং ১০২ ।)
অন্যের প্রয়োজনে না, নিজের প্রয়োজনে নিজেকে আইন জানতে হবে। আইন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। কারো কাছ থেকে কোন অধিকার প্রাপ্ত হলে, আগে জানতে হবে অধিকার আদায়ের বৈধ পন্থা, বিধি-নিষেদ। যুগের সাথে-সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য যেকোন নাগরীকের জন্য আইন জানা তাই অত্যাবশ্যক।
এডভোকেট মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহেল বাংলাদেশের সব আদালতে যতো মামলা হয় তার ৮৫% হল দেওয়ানি মোকদ্দমা প্রশ্ন হল দেওয়ানি মোকদ্দমা কোন ক্ষেত্রে হবে জেনে রাখা দরকার যে দেওয়ানি মামলা ৩টিই বিষয় নিয়ে হয়ে থাকে ১.সম্পত্তি ২.পদবী ৩.অধিকার
দেওয়ানি মোকদ্দমার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হল দখল, মালিকানা আর পারিবারিক মোকদ্দমা,ঘোষনামুলক মোকদ্দমা সেজন্য প্রথমেই দখল মালিকানা সম্পর্কে ধারনা থাকা দরকার দখল-দখল বলতে কোনো ব্যাক্তির সাথে কোনো সম্পত্তির এরূপ সম্পর্ক বুঝায়,যে তাহার সম্পর্কযুক্ত সম্পত্তি হইতে অন্যকে বহিষ্কার করতে পারে। দখল বিভিন্ন প্রকার হতে পারে ১.জবর দখল ২.উপ দখল ৩.তথ্যগত দখল ৪:আইনগত দখল ৫:প্রত্যক্ষ দখল ৬.পরোক্ষ দখল ৭.যৌথ দখল, ইত্যাদি
দখল সংক্রান্ত মামলা হয় সাধারণত সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ধারায় এবং ৯ ধারায় কোনো ব্যাক্তি যদি তার নিজ সম্পত্তি থেকে বেআইনি ভাবে দখলচূত হয় সেই ব্যাক্তির যদি সম্পত্তিতে মালিকানা নাও থাকে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ধারাবাহিক ভাবে ৬০ দিন দখলে থাকলে দখলচূত হওয়ার পরবর্তীতে ৬মাসের মধ্যে অ্যাডভেলোরাম কোর্ট ফি এর অর্ধেক দিয়ে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে সেক্ষেত্রে সরকারের বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবেনা ৮ ধারা-যদি কোনো ব্যাক্তির নিজ মালিকানা সত্ত্ব থাকা অবস্থায় বেআইনি ভাবে দখলচূত হয় সেই ক্ষেত্রে মালিক চাইলে ৮ ধারায় মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে মামলা করার তামাদি সময় ১২ বছর অ্যাডভেলোরেম কোর্ট ফি দিয়ে যেকোনো ব্যাক্তির (সরকার সহ) বিরুদ্ধে মোকদ্দমা দায়ের করতে পারবে।
লেখক ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এবং সাধারন সম্পাদক, LAW and LAWYERs, প্রভাষক,মিলন ল' একাডেমি , প্রভাষক,বঙ্গবন্ধু ল কলেজ, ঢাকা।
জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির দুটি ধারা সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের বিচারিক ক্ষমতা দেওয়ার প্রশ্নে রুল শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে পাঁচ আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেছেন আদালত। এঁরা হলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আমীর-উল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম, আজমালুল হোসেন কিউসি ও রোকন উদ্দিন মাহমুদ।
সোমবার বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে পাঁচ আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন।
জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দিলে ফৌজদারি আইনের ১৪৫ ও ১৪৭ ধারায় জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বিচারকাজ পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধি সংশোধন সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়। ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে তিন আইনজীবী ওই বছরই রিট করেন।
২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট প্রাথমিক শুনানির পর রুল দেন। রুলে ফৌজদারি কার্যবিধির দুটি ধারা সংশোধন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক ক্ষমতা দেওয়া কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, রাষ্ট্রপতি সচিবালয়ের সচিব, আইন ও সংসদবিষয়ক সচিবালয়ের সচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
আগামী ৮ এপ্রিল শুনানির পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়।
রিটের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু শুনানিতে অংশ নেন।
ডেভিড বার্গম্যানের সাজায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতিদাতা ৪৯ জনের মধ্যে ১৪ জনকে আদালত অবমাননার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তাঁরা ট্রাইব্যুনালের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছিলেন। ডেভিড বার্গম্যান বাংলাদেশে বসবাসরত বিট্রিশ নাগরিক।
বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ গতকাল সোমবার এ আদেশ দেন।
বিবৃতিদাতা অপর ৩৫ জনের বক্তব্য অস্পষ্ট থাকায় তাদেরকে আগামী ৩ মার্চের মধ্যে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলা হয়েছে। এই ৩৫ জন তাঁদের ব্যাখ্যায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আবার একই সঙ্গে তাঁদের বিবৃতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে আদালত অভিমত ব্যক্ত করেন। ওই দিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর বিষয়েও পরবর্তী আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত ১৪ জন হলেন: সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান ও রাশেদা কে চৌধূরী, সুশাসনের জন্য নাগরিকের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ, আসিফ নজরুল, শাহনাজ হুদা ও আমেনা মহসীন, বাংলাদেশ শিশু বিকাশ কেন্দ্রের জাতীয় সমন্বয়ক নায়লা জামান খান, সংগীতশিল্পী অরূপ রাহী, লেখক শাহীন আখতার এবং মানবাধিকারকর্মী জাকির হোসেন ও ইলিরা দেওয়ান। তাঁদের বেশির ভাগই ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল জব্বারকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির সাবেক এই সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার জব্বার বর্তমানে পালাতক আছেন।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ আজ মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করেন।
আবদুল জব্বার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির সাংসদ ছিলেন।
গত বছরের ১৪ আগস্ট জব্বারকে পলাতক ঘোষণা করে তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার শুরু হয়। অভিযোগ মধ্যে, মঠবাড়িয়া রাজ্জাক হত্যাকান্ড, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ, ১১ জন হিন্দুধর্মাবলম্বীকে গুলি করে হত্যা, ২০০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য করা, ৩৭ জন হিন্দুধর্মাবলম্বীকে অপহরণ করে, যাঁর মধ্যে ২২ জনকে পরে হত্যা অন্যতম।
তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে ২৪ জন সাক্ষ্য দেন। জব্বারের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আবুল হাসান। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এ মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছিল।
এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সোহেল
ইভটিজিং বলতে সাধারণভাবে আমরা বুঝি রাস্তাঘাটে মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত বা হয়রানি করা, মেয়েদের উদ্দেশ্যে কটু মন্তব্য করা, অশ্লীল ইঙ্গিত, শিস দেওয়া, কুৎসিত শারীরিক অঙ্গভঙ্গি করা, পথ আটকে দাঁড়ানো বা ওড়না টেনে ধরার মতো অশোভন আচরণ ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো আসলে যৌন হয়রানির নামান্তর। উত্ত্যক্ত করা ও হয়রানির ঘটনায় বাংলাদেশে যেভাবে মেয়েদের আত্মঘাতী হওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, পৃথিবীর অন্য কোথাও সেরকম নজির নেই। অবশ্য অনেক দেশে এ ধরণের ঘটনা ঘটলে আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়। আর আমাদের দেশে আইনি প্রতিকার তো দূরের কথা, এরকম ঘটনায় পরিবার ও সমাজের মানসিক সমর্থন ও অনেক সময় পাওয়া যায় না। আমাদের সমাজে অনেকে এগুলোকে তরুণ
বয়সীদের ‘একটু মজা’ বা বয়সজনিত চপলতা হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু ইভটিজিং আসলে যৌন হয়রানির একটি ধরন। এটি একটি ঘৃণ্য
অপরাধ যা নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘন করে। ইভটিজিং –এর কারণে অনেক মেয়েশিশু তাদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পরিবেশ পাচ্ছে না এবং তাদের জীবনের গতি অসময়ে রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক সম্ভাবনা অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে।সহজ টার্গেট বলে মেয়েশিশুরা টিজিং-এর শিকার
হয়ে বেশি। মেয়েদের উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করা যা ইভটিজিং বলে পরিচিতি, গুরুতর অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া উচিত। কারণ এর ফলে অসংখ্য
মেয়ের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়ে। বখাটেদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার ঘটনা আমাদের সমাজে হরহামেশাই ঘটছে।
ইভটিজিং-এর প্রকোপ বর্তমানে এমন এক জায়গায় পৌছেছে যে, রাজধানীর খিলগাঁওয়ের সিমি, মিরপুরের ফাহিমা, খুলনার রুমি, গাইবান্ধার তৃষা, স্বপ্না, সাভারের তিথির মতো অসংখ্য কিশোরী নিজের জীবনের সমাপ্তি টেনেছে আত্মহননের মধ্য দিয়ে। এসব মৃত্যু শুধু মৃত্যুই নয়; আমাদের অভিশপ্ত সামাজিক জীবনের একেকটি বিষাদময় কাহিনী। গাইবান্ধার শিশু তৃষা কিংবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্রী সিমি আত্মহননের পথ বেছে নেওয়ার পর দেশব্যাপী অনেক হৈচৈ হয়েছে। নারী আন্দোলনের কর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক
আন্দোলন-সংগ্রামও পড়ে তুলেছিল।
কিন্তু এ পর্যন্তই। ইভটিজিং বা বখাটেদের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্মহননের ঘটনা থামেনি। হরহামেশাই তা ঘটছে। ইভটিজিং নারী নির্যাতনের নতুন হাতিয়ার: একজন মানুষ নারী হয়ে জন্ম নেওয়ার কারণে যে নির্যাতনের শিকার হন সাদামাটা ভাবে তাকেই নারী নির্যাতন বলে। জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী নারীর যে কোন ধরনের দৈহিক, জৈবিক ও মানসিক ক্ষতিসাধন করা বা করার চেষ্টা করা নারী নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত। বেইজিং চতুর্থ নারী সম্মেলনে নারীর প্রতি সহিংসতামূলক যে কোন ধরনের তৎপরতা যার ফলে নারীর শারীরিক, মানসিক,যৌন বা মনস্তাত্ত্বিক ক্ষতি বা বিপর্যয় ঘটে ঘটতে পারে তাকে নারী নির্যাতন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়গুলো থেকে স্পষ্ট যে, নারী নির্যাতন কেবল দৈহিক বা শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইভটিজিং বর্তমানে নারী নির্যাতনের একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এক সময় সমাজের বখে যাওয়া একটি ক্ষুদ্র অংশই ইভটিজিং-এর সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন উঠতি বয়সী তরুণ, কিশোর, যুবকরা তো আছেই; মধ্যবয়সীরাও কম যান না। রাস্তাঘাট, অফিস, ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার-স্টেশন, সর্বত্রই প্রতিনিয়ত ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছে উঠতি বয়সী তরুণী ও কিশোরীরা। কখনও কখনও এদের দাপট এতটাই বেশি হয় যে, সমাজপতিরা পর্যন্ত এদের সমীহ করে চলেন বা জোগানদাতা হিসেবে কাজ করে থাকেন।
ইভটিজিং স্পষ্টতই যৌন হয়রানি: ‘ইভটিজিং’ কথাটা আমাদের দেশের পত্রপত্রিকার খুবই ব্যবহর করা হয়। রাস্তায় মেয়েদের দেখে টিটকারি দেওয়াকেই এক কালে ইভটিজিং বলা হত। ‘টিজিং’ কথাটির আভিধানিক অর্থ পরিহাস, জ্বালাতন ইত্যাদি। তাই ইভটিজিং শুনলে মনে হয়, সেটা দুষ্টুমি হতে পারে তবে গুরুতর কোন অন্যায় নয়। পৌরাণিক কাহিনিতে প্রচলিত আছে ইভ-এর প্ররোচনায় অ্যাডাম নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করার কারণেই তারা স্বর্গচ্যুত হয়েছিলেন। তারই আলোকে সে স্মৃতি ধরে রেখে যুগযুগান্তর ধরে অ্যাডাম-সন্তানেরা ইভ (নারী) কে উত্ত্যক্ত করেই চলেছেন। অথচ এ
ঘটনার বিবরণ সুরা আল আরাফ সহ কোরাআন শরিফের বিভিন্ন পংক্তিতে রয়েছে। যেখানে খুব স্পষ্ট করে বলা আছে, যখন ইভ বা বিবি হাওয়া ও অ্যাডাম বা আদমকে নিষিদ্ধ ফলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে তা ভক্ষণ করতে বারণ করা হয়েছিল, তখন তাঁরা উভয়েই ফলটি ভক্ষণ করে ফেলেন, শাস্তিস্বরূপ তাদের মর্ত্যে আগমন। কাজেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে পৌরাণিক কাহিনির সৃষ্টি তা সত্য সাক্ষ্য দেয়া না। ইভটিজিং বলে অন্যায়টাকে হালকা করে দেখার একটা প্রবণতা থাকে, যাকে যৌন হয়রানি বললে আচরণের গভীরতা প্রকাশ পায়। এজন্য যৌন হয়রানির বদলে আমাদের সমাজে ইভটিজিং কথাটি ব্যবহার করার প্রবণতা লক্ষ করা যায়। সভ্য সমাজে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয় না। সেখানে এই আচরণ যৌন হয়রানি (sexual harassment) হিসেবে বিবেচিত হয়। যৌন হয়রানির বিভিন্ন ধরন বা রূপ: আগে কেবল কথা বা শিস দিয়ে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ব্যাপারটি সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ইভটিজিংয়ের ধরন বদলাচ্ছে। এখন গ্রামেগঞ্জের মেয়েরা নিরাপদে চলাচল করতে, স্কুলকলেজে যেতে পারে না। অভিভাবকরা মেয়েদের নিয়ে সারাক্ষণ আতাঙ্কে থাকেন। স্কুল বা কলেজের যাত্রাপথে বখাটেরা রাস্তার ধারে দল বেঁধে থাকে এবং মেয়েদের যাত্রাপথে অশ্লীল মন্তব্য, বাজে অঙ্গভঙ্গি করে এবং উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। অঝ্হাত পরিচয়ে মোবাইল ফোনে উত্ত্যক্ত
করে। এ ছাড়া এরা মোবাইল ফোনের নম্বর সংগ্রহ করে হুমকির পাশাপাশি অশ্লীল মেসেজ পাঠায়। অনেক সময় গাড়ি বা মোটরসাইকেলে পিছু
ধাওয়া করতে করতে মেয়ের বাড়ি পর্যন্ত চড়াও হয়। বখাটেরা মেয়েদের পেছন পেছন হাঁটে, রিকশায় জোর করে পাশে উঠে যায়, পাশাপাশি চলন্ত রিকশায় কটু মন্তব্য করে, এমনকি বাড়ি এসে মেয়ে ও তার পরিবারের সদস্যদের অপমান করে। প্রতিবাদ করলে উলটো হুমকিধামকি দেয়। এগুলো মেয়েদের নিত্যদিনের অভিজ্ঞতার অংশ হয়ে গেছে। অনেকে এই আচরণেকে তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের বহিঃপ্রকাশ বলে সাফাই গায়। তারা বয়সের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, আসলে এ বয়সটাই নিয়ন্ত্রণহীন, এ বয়সে ছেলেরা এরকমই হয়। তারুণ্যভরা যৌবনদীপ্ত বয়সে এটা খুবই স্বাভাবিক। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে ছেলেদের এসব আচরণকে এভাবেই সমর্থন করা হয়। মেয়েদের প্রতি এমন আচরণ যারা করে তাদের সামগ্রিক
গতিবিধিই স্পষ্ট করে দেয়, যে তারা কোন সৎ উদ্দেশ্য থেকে এটা করছে না। অনেকে আবার গায়ে পড়ে এসে মেয়েদের উপর অভিভাবকত্ব ফলান। এই অভিভাবকত্ব ফলানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তারা মোটেও মাথা ঘামান না। কোন জনবহুল জায়গাতে (হাসপাতার, বাসাষ্ট্যান্ড, রেলস্টেশন) কিছু বয়স্ক লোক মেয়েদের দেখলে এসে বলবে, ‘মা,আমি তোমার বাবার মতো’ অথবা, ‘বোন, আমি তোমার বড় ভাইয়ের মতো।’ এই খোশধারীরা উপযাচক হয়ে অভিভাবকত্ব ফলিয়ে মেয়েদের হয়রানি করে। পথেঘাটে এরূপ আচরণ অনধিকার চর্চার নামান্তর। যৌন হয়রানি ঃ দায়ী আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও নিস্ত্রিয় আচরণ: ইভটিজিংয়ের শিকড় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বা মূল্যবোধের মধ্যেই মিশে রয়েছে। নারীর প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ ও সহিংস
সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটিয়ে নারী- পুরুষের অংশীদারিত্বমূলক, সহমর্মিতাপূর্ণ, দায়িত্বশীল, সুস্থ সম্পর্কের বিকাশের প্রতি মনোযোগ দেওয়া দরকার। এ ব্যাপারে পরিবার থেকেই উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে, পরিবর্তন করতে হবে নেতিবাচক মানসিকতা। শিশুর বেড়ে ওঠা ও সামাজিকীকরণের মধ্যেই নারীর প্রতি এই বিদ্বেষ ও সহিংস মনোভাব আত্মস্থ হয়ে পড়ে এবং তা ছেলেশিশুর ব্যক্তিত্বের অংশে পরিণত হয়। পরিণত জীবনে এটা মুছে ফেলা কঠিন হয়। ঘরের অভ্যন্তরে বাবা বা অন্যান্য পুরুষচরিত্রের রুঢ় আচরণ মেয়ে বা নারীদের অপমান করার সহজাত প্রবণতা থেকে ছেলেরা আত্মম্ভরী,
বিদ্রুপাত্মক ও আশে-পাশের কম শক্তিধর মানুষকে হেয় করার মানসিকতা নিয়ে বড় হতে থাকে এবং মেয়েরা শত অত্যাচার-অনাচারেও রা না করে মেনে নেওয়ার প্রবণতাকে ধারণ করে নেয়। এধরণের সামাজিকীকরণের মাধ্যমেই ছেলেরা রাগী, উদ্ধত ও সিদ্ধান্ত প্রদানে আগ্রহী হয় এবং মেয়েরা মেনে নেওয়া, কথা না বলা ও সিদ্ধান্তহীনতার চরিত্রকে ধারণ করে। প্রকারান্তেরে উভয়েই অসম্পূর্ণ মানুষ হয়ে বড় হয়। এই চক্র থেকে উত্তরণ পেতে হলে শিশুর সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার দিকে সর্বপ্রথম নজর দিতে হবে যাতে তারা উভয়ের প্রতি সম্মান ও মর্যাদার মনোভাব নিয়ে বেড়ে উঠতে শেখে। আইনের ব্যাখ্যা নেই: আমাদের দেশে ইভটিজিংয়ের ঘটনা থেকে আত্মহত্যার ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনের কোন ধারায় ইভটিজিং বা হয়রানি সম্পর্কে কিছু বলার নেই।
তবে হয়রানিমূলক কাজকে বিভিন্ন আইনে অপরাধ বলে ধরে শাস্তির বিধান করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত যেসব আইনে ইভটিজিং জাতীয় কর্মকান্ডের বিচার সম্ভব সেগুলো হল দন্ডবিধি, ১৮৬০ (ধারা-২৯৪ এবং ধারা-৫০৯), ঢাকা মহানগরী পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ (ধারা ৭৬)। এগুলোতে নারীদের উত্ত্যক্ত করার জন্য শাস্তির বিধান আছে সর্বোচ্চ মাত্র তিন মাস বা এক বছর কারাদন্ড কিংবা দু হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানা আদায় না হলে কী করা হবে তার উল্লেখ নেই কোথাও। এই ন্যূনতম শাস্তির বিধান দিয়ে এ ধরণের অপরাধের প্রতিকার কতটা সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। তা ছাড়া এই আইনগুলোর কথা সাধারণ মানুষ তো দূরে থাক, খোদ আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বা আইনজীবীরাও অনেকে জানেন না। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০-এ ইভটিজিং-কে যৌন হয়রানির
একটি ধরণ হিসেবে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যদিও ইভটিজিং শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি। কিন্তু ২০০৩ সালে আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে যৌন হযরানির শর্তগুলোকে শিথিল করা হয়েছে। ফলে এর আওতায় ইভটিজিং-এর ঘটনার আইনি প্রতিকার পাওয়ার আশা ক্ষীণ হয়ে গেছে। ২০০৩ সালের সংশোধনীতে একটি নতুন উপধারা সংযুক্ত করা হয়, যাতে কোন নারী সম্ভমহানির কারণে আত্মহত্যা করলে আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। তবে এখানে সম্ভমহানির কোন সংজ্ঞা বা আওতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। প্রচলিত ১৮৬০ সালের দন্ডবিধি আইনের ৫০৯ ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ কোন নারীর শালীনতার অমর্যাদার করার জন্য কোন মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি বা কোন বস্তু প্রদর্শন করে তাহলে ঐ ব্যক্তি এক বছর কারাদন্ড বা অর্থদন্ডে দন্ডিত হবে।
কিন্তু এসব অপরাধের সাক্ষ্যপ্রমাণের যে জটিলতা, তার প্রমাণ দিতে হয় অভিযোগকারীকেই। ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০৯ (২) ধারায় যৌন নিপীড়ন হিসেবে বিবেচনা করে হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের বিষযটি উল্লেখ করা হলেও আইনের অপব্যবহারের কথা বলে পরে ২০০৩ সালে কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে তা বাতিল হয়। যৌন কামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে কোন নারী বা শিশুর শরীর স্পর্শ করলে বা শ্লীলতাহানি করলে শাস্তির বিধান হচ্ছে সর্বোচ্চ ১০ বছর ও সর্বনিম্ন ৩ বছরের কারাদন্ড এবং অর্থদন্ড। তবে স্পর্শের প্রসঙ্গে থাকায় তা হয়রানি বা আত্মহত্যায় প্ররোচনার ভেতরে পড়ে না আইনের ব্যাখ্যামতেই। তবে ১৪ মে ২০০৯ যৌন হয়রানি বন্ধে হাইকোর্টের এক যুগান্তকারী রায় ঘোষণার পর এ সংক্রান্ত অস্পষ্টতা অনেকটাই দূর হয়েছে। এখন প্রয়োজন এই রায়ের
যথাযথ বাস্তবায়ন। যৌন হয়রানির ফলে সৃষ্ট সামাজিক সমস্যা: সমাজে নারীর অসম অবস্থানকে টিকিয়ে রাখতে যৌন হয়রানির প্রভাব সর্বগ্রাসী। প্রতিমূহূর্তে তা নারীর কাজ-কর্ম চলাফেরাকে বাধাগ্রস্থ করে শুধু তাই নয়, মনোবল ধ্বংস করে সামাজিকভাবে নারীকে অযোগ্য ও নিস্তেজ করে রাখে।
সক্ষমতা অর্জনে প্রাথমিক পর্যায়েই বাধা দেয। টিজিংয়ের বদঅভ্যাস পুরুষদের জীবকে চটুল রসে পূর্ণ করে ও লেঅভী মানসিকতা প্রকাশে সহায়তা করে। অন্যদিকে শিশু ও নারীদের জন্য অনবরত দুর্বিসহ পরিস্থিতি তৈরী করে যা ভেদ করে জীবনের স্বাভাবিক সুবাতাস গ্রহণ প্রায়শ সম্ভব হয় না।
ইভটিজিং এর মতো মেয়েদের প্রাণসংহারক একটি গুরুতর অপরাধকে হাল্কাভাবে দেখার এবং এর দোষ মেয়েদের ঘাড়ে চাপানোর প্রবণতাই এর
ব্যাপ্তি বাড়াতে সহায়তা করছে। আমাদের রক্ষণশীল সমাজের ধারণা মেয়েদের জায়গা ঘরে আর ছেলেদের জায়গা বাইরে। এমনও বলা হয়ে থাকে যে, মেয়েরা অশালীন পোশাক পরে রাস্তাঘাটে চলাচল করে বলেই হয়রানির ঘটনা ঘটে। অথচ বৃদ্ধা বা অবগুণ্ঠিত নারীদের ক্ষেত্রেও যৌন হয়রানির অহরহ ঘটার প্রমাণ পাওয়া যায়। আমাদের সমাজ হয়রানিরকারীদের না দুষে উল্টো মেয়েদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে তাদেরকে মানসিক ভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। অন্যদিকে অপরাধীদের দ্বিগুণ উৎসাহ এ কাজ চালিয়ে যায়। সমাজের চাপ এবং অনীহার কারণে এ নিয়ে আইনের দ্বারস্থ হতেও সমস্যা হয়। যৌন হয়রানি বা টিজিংয়ের কারণ ব্যক্তির বিবেচনা বোধের অভাব, শ্লালীনতাহীনতা, ক্ষমতার দম্ভ ও অপব্যবহার, সীমাহীন যৌন লিন্সা, বিকৃতি ইত্যাদি। নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই মূলত উত্ত্যক্ত করা ও হয়রানির সূত্রপাত ঘটে। পুুরুষতান্ত্রিক মন-মানসিকতায় পুষ্ট সমাজ ভাবে নারীরা সব সময় পুরুষের অর্ধস্ত, তাই ইচ্ছামতো তাদের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়। সমাজে তাদেরকে শুধু ভোগ্য পণ্য হিসেবে দেখার
প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে গণমাধ্যমে তথা বিজ্ঞানপন, মিউজিক ভিডিও সিমেনা ইত্যাদিতে নারীর উপস্থিতি এখন অনেকটাই যৌন বস্তু
হিসেবে। নাটক-সিমেনা উপন্যাসে ইভটিজিং এর মাধ্যমে নায়ক নায়িকার প্রেমের সুত্রপাত দেখতে দেখতে উঠতি তরুণরা নিজেরাই হিরো সেজে মেয়েদের পিছু নেওয়া শুরু করে। বিবিধ কারণে আজ যুব সমাজের নৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয় ও ঘটছে। তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে যৌন হযরানি, নারী নির্যাতন বা লাঞ্জনার মধ্য দিয়ে। ক্রমবর্ধমান বেকরাত্ব রাজনৈতিক প্রভাব, সামজিক অস্থিরতা প্রভৃতিও এই ফরাধের পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। উত্ত্যক্ত করা হয়রানির পথ ধরে অপহরণ, ধর্ষণ , এসিড নিক্ষেপ, জোরপূর্বক বিয়ে, আত্মহত্যা পরিবাবের এলাকা ত্যাগ, মা-বাবা ভাইয়ের হতাহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকে এবং এর নেতিবাচক প্রভাবও তাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজসহ বিভিন্ন পর্যায়েই পড়ে। কিন্তু আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা কখনও কখনও একে একটি রোমান্টিক ইমেজ দিতে চায় এবং টিজিংকারী পুরুষদের রোমিও বলে অভিহিত করা হয়।
রোমান্টিকতার পর্দার আড়ালে যৌন হয়রানির কুফল বা নৈতিবাচক তপরিণতিগুলো তাই আমাদের চোখে পড়ে না। বিকৃত মানসিক
সম্পন্ন বখাটেরা নিজেদের বিকৃত বিনোদন পাওয়ার জন্য মেয়েদের নানাভাবে উত্তৗক্ত করে। এর ফলে যে ধরণের সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হয় সেটিও অনভিপ্রেত।ভয়-ভীতি ডিঙিয়ে যখন নির্যাতিতা মেয়েটি পরিবারে সদস্যদের কাছে ঘটনাটি খুলে বলে তখন তাকে কঠিন পরিণতির দিকে ঠেলে দেওয়া হয় সেটি আরও দুর্বিষহ। পরিবারের মূল্যরোধের কথা চিন্তা করে মেয়েটির জীবনের সকল আশা আকাঙ্খাকে বিসর্জন দিয়ে বিষয়ের
মাধ্যমে তাকে ঠেলে দেওয় হয় ভিন্ন এক জগতে। বিয়ের পরিণত বয়সের আগেই মেয়েটির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পিতামাতা বা অভিভাকরা এ
রকম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেও ধরণের বাল্য বিয়ে গ্রামে হয়ে থাকে। আমাদের দেশে বিপুলসংখ্যক মেয়েশিশু ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে ভর্তি হলেও এসএসসি পরীক্ষায় আগেই ঝরে পড়ে। স্কুল থেকে মেয়েশিশু শিক্ষাথীদের ঝরে পড়ার অন্যতম একটি কারণ হল বাল্যবিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাল্যবিয়ের কারণ হিসেবে দেখা গেছে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি। ইভটিজিংয়ের ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে শিক্ষার আলে থেকে। সচ্ছল পরিবারের অীভভাবকরা সন্তানদের পড়াশোনার বিষযটির কথা চিন্তা করে শহরে পাঠিয়ে দেয়। প্রথম আলোর ২০০৬ সালের ২১ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনের! দেখা গেছে বাজিতপুরে এসএসসি পাস করার পর ৪০-৫০ জন শিক্ষাথীর উদ্বিগ্ন অভিভাবক তাদের মেয়েদের বৈরবের
ছাত্রীনিবাসে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এরকম পরিস্থিতিতে দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জীবনের আশা আকাঙ্খার যবনিকা টানতে হয়। অথচ এই জঘন্য অপরাধ ও দেশীয় অর্থনীতি ধ্বংস সাধনকারীদের বিচারের কাঠগড়ায়! দাড়াতে হয় না। আসুন আমরা সবাই মিলে ইভটিজিং এর বিরুদ্ধে রুখে দাড়াই , তবেই আমাদের দেশকে
লেখক, আইনজীবী
সাধারন সম্পাদক LAw And LAWERS
LecturerMilon Law Academy Bangabandhu Law College
ধারা-১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, কার্যকারিতার সীমা ও প্রবর্তন (Short title, extent and Commencement) : ১. এই আইন ১৯০৮ সালের তামাদি আইন নামে অভিহিত হইবে। ২. ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে। ৩. অত্র ধারা ও ৩১ ধারা অবিলম্বে বলবত্ হইবে। এই আইনের অবশিষ্টাংশ ১৯০৯ সালের পহেলা জানুয়ারি হইতে বলবত্ হইবে।
ধারা-২ সংজ্ঞা (Definitions) : বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গের বিপরীত না হইলে এই আইনের নিম্নলিখিত শব্দ বা শব্দ সমষ্টি দ্বারা নিম্নরূপঅর্থ বুঝাইবে; যথা : ১. ’ দরখাস্তকারী’ বলিতে যেই ব্যক্তির নিকট হইতে বা যাহার মাধ্যমে দরখাস্তকারী তাহারদরখাস্ত করিবার অধিকার লাভ করিয়া থাকে, সেই ব্যক্তিকে বুঝায়।
২. ’ বিনিময় পত্র’ বলিতে হুণ্ডী এবং চেক বুঝায়।
৩. ’ মুচলেকা’ বলিতে এমন কোনো দলিল বুঝায়, যাহা দ্বারা কোনো ব্যক্তি অপর কোনোব্যক্তিকে অর্থ প্রদানের জন্য নিজেকে এই শর্তে বাধ্য করিয়া থাকে যে, নির্দিষ্ট কোনো কাজসম্পাদিত হইলে বা না হইলে উক্ত বাধ্যবাধকতা বাতিল হইয়া যাইবে।
৪. ’ বিবাদী’ বলিতে যেই ব্যক্তির নিকট হইতে বা যাহার মাধ্যমে বিবাদী তাহার বিরুদ্ধে মামলাদায়ের হইবার দায়-দায়িত্ব লাভ করিয়া থাকে, সেই ব্যক্তিকে বুঝায়।
৫. ’ ব্যবহারস্বত্ব’ বলিতে এমন কোনো অধিকার বুঝায়, যাহা কোনো চুক্তির ফলে উদ্ভুত হয় নাইএবং যাহা দ্বারা কোনো ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির স্বত্বাধীন জমির কোনো অংশ বা তাহার কোনোফসল বা তাহাতে সংযুক্ত বা অবাঞ্ছিত কোনো কিছু নিজের লাভের জন্য অপসারণ ও ব্যবহারকরিবার অধিকার লাভ করে।
৬. ’ বিদেশ’ বলিতে বাংলাদেশ ব্যতীত অন্য যেই কোনো দেশ বুঝায়।
৭.’ সরল বিশ্বাস’ যদি যথোপযুক্ত যত্ন ও মনোযোগ সহকারে কোনো কাজ না করা হয়, তবেতাহা সরল বিশ্বাসে করা হইয়াছে বলিয়া বুঝাইবে না।
৮. ’ বাদী’ বলিতে যেই ব্যক্তির নিকট হইতে বা যাহার মাধ্যমে বাদী মামলা করিবার অধিকারলাভ করিয়া থাকে, সেই ব্যক্তিকে বুঝায়।
৯. ’ অঙ্গীকার পত্র’ এমন কোনো দলিল, যাহা দ্বারা ইহার প্রণেতা নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকাদলিলে নির্ধারিত কোনো সময় অথবা চাহিবামাত্র তাহার দলিলটি তাহার নিকট উপস্থাপিত করামাত্র অপর একজনকে প্রদানের জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে দায়বদ্ধ করে।
১০. ’ মামলা’ বলিতে কোনো আপিল বা দরখাস্ত বুঝায় না।
ধারা-৩ ( তামাদি মেয়াদ অন্তে দায়েরকৃত মামলা ইত্যাদি খারিজ (Dismissal of suits, etc, Instituted, etc, after period of Limitation) :
অত্র আইনের ৪ হইতে ২৫ ধারার উভয় ধারাসহ সাপেক্ষে প্রথম তফসিলে এতদুদ্দেশ্যে নির্ধারিত তামাদি মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর মামলা, আপিল বা দরখাস্ত রুজু, দায়ের বা দাখিল করা হইলেবিবাদীপক্ষ যদি তামাদির প্রশ্ন উত্থাপন নাও করে, তারপরও উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্ত খারিজবলিয়া বিবেচিত হইবে ।
ব্যাখ্যা সাধারণত উপযুক্ত কর্মচারির নিকট আরজি উপস্থিত করিলে, নিঃস্ব হইলে, নিঃস্বভাবে মামলাকরিবার অনুমতির জন্য দরখাস্ত করিলে এবং আদালত, যেইখানে কোম্পানি গুটাইয়া ফেলিতেছে;সেইখানে কোম্পানির বিরুদ্ধে দাবির ক্ষেত্রে দাবিদার সরকারী অবসায়কের নিকট দাবি প্রেরণকরিলে মামলা দায়ের করা হয় ।
ধারা-৪ (আদালত বন্ধ থাকা অবস্থায় যখন তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয় (Where court is closed when period expires) :
যেইক্ষেত্রে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ আদালত বন্ধথাকার দিন উত্তীর্ণ হয়, সেইক্ষেত্রে আদালত পুনরায় খুলিবার দিন উক্ত মামলা, আপিল বা দরখাস্তরুজু দায়ের বা রুজু করা যাইবে ।
ধারা-৫ (ক্ষেত্র বিশেষে মেয়াদ বৃদ্ধিকরণ (Extension of period in certain cases) :
কোনো আপিল বা রায় পুনর্বিচার বা পুনরীক্ষণের দরখাস্ত বা আপিল করিবার অনুমতি প্রার্থনারদরখাস্ত বা অন্য কোনো দরখাস্ত, যাহার উপর এই ধারা বর্তমানে বলবত্ কোনো আইনের দ্বারা বাঅধীনে প্রযোজ্য করা হয়, উহার নির্দিষ্ট তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পর গৃহীত হইতেপারে, যদি আপিলকারী বা দরখাস্তকারী এই মর্মে আদালতের সন্তুষ্টি সাধন করিয়া থাকে যে,নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে আপিল বা দরখাস্তটি দাখিল না করিবার যথেষ্ট কারণ ছিল।
ব্যাখ্যাঃ আপিলকারী বা দরখাস্তকারী যদি হাইকোর্ট বিভাগের কোনো আদেশ, প্রথা বা রায় দ্বারা তামাদিরমেয়াদ গণনা বা নির্ধারণ করিতে বিভ্রান্ত হইয়া থাকেন, তবে তাহা বর্তমান ধারা অনুযায়ী যথেষ্টকারণ বলিয়া গণ্য হইবে ।
ধারা-৬। বৈধ অপারগতা (Legal disability) : উপধারা-(১) যেইক্ষেত্রে মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার কিংবা ডিংক্রী জারির জন্যদরখাস্ত দাখিলের অধিকারী ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে, সেইসময় নাবালক, উন্মাদ বা জড়বুদ্ধি থাকে, সেইক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি তাহার উপরোক্ত অপারগতারঅবসান হইবার পর, অপারগতা না থাকিলে, প্রথম তফসিলের তৃতীয় স্তম্ভে অথবা ১৯০৮ সালেরদেওয়ানী কার্যবিধির ৪৮ ধারায় বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেইমেয়াদের মধ্যে মামলা বা কার্যধারা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(২) যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তি, যেই সময় হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতেহইবে, সেই সময় উপরে বর্ণিত যেই কোনো দুইটি অপারগতার অবসান হইবার পূর্বেই সেআরেকটি অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি তাহার উভয় অপারগতার অবসান হইবারপর, অপারগতা না থাকিলে, উপরে বর্ণিত যেই মেয়াদের মধ্যে সে উহা করিতে পারিতো, সেইমেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দরখাস্ত দাখিল করিতে পারিবে।
উপধারা-(৩)যেইক্ষেত্রে অনুরূপ কোনো ব্যক্তির মৃত্যু পর্যন্ত তাহার অপারগতা অব্যাহত থাকে,সেইক্ষেত্রে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি ঐ ব্যক্তির মৃত্যুর পর অপারগতা না থাকিলে উপরে বর্ণিতযেই মেয়াদের মধ্যে উহা করা যাইতো, সেই মেয়াদের মধ্যে মামলা দায়ের কিংবা দাখিল করিতেপারিবে।
উপধারা-(৪) যেইক্ষেত্রে উপরোক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর তারিখে তাহার আইনানুগ প্রতিনিধি অনুরূপকোনো অপারগতায় পতিত হয়, সেইক্ষেত্রে (১) ও (২) উপধারায় বিধৃত বিধানসমূহ প্রযোজ্যহইবে।
উদাহরণ : (ক) ‘ক’ নাবালক থাকাকালে একটা নৌকার ভাড়া আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্তহয়। ইহার চার বত্সর পর সে সাবালক হয় । সাবালক হইবার তারিখ হইতে তিন
(খ) ‘খ’ নাবালক থাকাকালে একটা মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয়। এই অধিকার লাভের পরকিন্তু নাবালক থাকাকালেই সে উম্মাদ হইয়া পড়ে । তাহার নাবালকত্ব ও উম্মাদ অবস্থার অবসানেরতারিখ হইতে তাহার তামাদি মেয়াদ গণনা শুরু হইবে ।
(গ) ‘গ’ নাবালক থাকাকালে একটা মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয় । সাবালক হইবার পূর্বে ’গ’ মারা যায় এবং তাহার নাবালক ছেলে ’ খ’ তাহার উত্তরাধিকারী হয় । ’ গ’ সাবালক হইবারতারিখ হইতে তাহার তামাদির মেয়াদ গণনা শুরু হইবে ।
ধারা-৭ (কতিপয় বাদী অথবা দরখাস্তকারীর একজনের অপারগতা (Disability of one of several plaintiffs or applicants) :
যেইক্ষেত্রে কতিপয় ব্যক্তি মামলা বা কার্যধারা দায়ের করিবার অথবা ডিক্রী জারির জন্য দরখাস্তদাখিল করিবার অধিকারী এবং তাহাদের একজন উপরোক্ত প্রকারের অপারগতা এবং তাহারসম্মতি ছাড়াই দায়মুক্ত করা চলে, সেই ক্ষেত্রে তাহাদের সকলের প্রতিকূলেই তামাদির মেয়াদঅতিবাহিত হইতে থাকিবে । কিন্তু যেইক্ষেত্রে অনুরূপভাবে দায়মুক্ত করিবার যোগ্যতা অর্জন নাকরা পর্যন্ত অথবা উপরোক্ত অপারগতার অবসান না হওয়া পর্যন্ত তাহাদের কাহারওপ্রতিকূলে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইবে না ।
উদাহরণ : (ক) ‘ক’ একটা ফার্মের নিকট দেনাগ্রস্ত হয় । খ, গ ও ঘ সেই ফার্মের অংশীদার । খ উম্মাদ এবংগ নাবালক । খ এবং গ-এর সম্মতি ছাড়াই ঘ দেনাদার ’ ক’-কে দায়মুক্ত করিতে পারিবে এইক্ষেত্রেখ, গ এবং ঘ সকলের প্রতিকূলেই তামাদি মেয়াদ অতিবাহিত হইবে ।
(খ) ‘ক’ একটা ফার্মের নিকট দেনাগ্রস্ত। চ, ছ এবং জ সেই ফার্মের অংশীদার । চ ও ছ উম্মাদএবং নাবালক । চ অথবা ছ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিংবা জ সাবালক না হওয়া পর্যন্তকাহারও প্রতিকূলে তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইবে না ।
ধারা-৮ (বিশেষ ব্যতিক্রম (Special exceptions) : ৬ অথবা ৭ ধারার কোনো কিছুই অগ্রক্রয়ের অধিকার বলবতের মামলায় প্রযোজ্য নহে । যেইমেয়াদের মধ্যে মামলা অবশ্যই দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিতে হইবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরঅপারগতার অবসানে বা মৃত্যুর পর তাহা উক্ত ধারাদ্বয়ের কোনো কিছুই তিন বত্সরের অধিকবর্ধিত করিয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে না ।
উদাহরণ : (ক) ক নাবালক থাকাকালে মিরাস আদায়ের জন্য মামলা করিবার অধিকার লাভ করে। ইহার ১১বত্সরপর সে সাবালক হয়। সাধারণ আইন অনুসারে ক মামলা দায়ের করিবার জন্য মাত্র অবশিষ্টএক বত্সর সময় পায় । কিন্তু ৬ ধারা ও অত্র ধারা অনুসারে সে আরও দুই বত্সর অতিরিক্ত সময়পাইবে । অর্থাত্ সাবালক হইবার পর তিন বত্সরের মধ্যে সে মামলা দায়ের করিতে পারিবে ।
(খ) ক উম্মাদ থাকাকালে বংশগত একটা পদ লাভের জন্য মামলা করিবার অধিকারপ্রাপ্ত হয় ।ইহার ৬ বত্সর পর ক সুস্থ হয় । সাধারণ আইন অনুসারে ক সুস্থ হইবার ৬ বত্সরের মধ্যে মামলাদায়ের করিতে পারিবে ৬ ধারা অত্র ধারার সহিত মিলাইয়া পড়িতে হইবে এবং তদানুসারে ক-এর মামলা দায়ের করিবার মেয়াদ আর বর্ধিত হইবে না ।
(গ) ক নামক একজন জড়বুদ্ধি সম্পন্ন জমিদার প্রজার নিকট হইতে জমির দখল পুনরুদ্ধারের জন্যমামলা করিবার অধিকার লাভ করে । ইহার তিন বত্সর পর ক মারা যায় এবং মৃত্যুর দিনপর্যন্ত সে জড়বুদ্ধি সম্পন্ন থাকে । সাধারণ আইন অনুসারে ক-এর স্বত্বাধিকারী তাহার মৃত্যুরতারিখ হইতে নয় বত্সরের মধ্যে মামলা দায়ের করিতে পারিবে ৬ ধারার সহিত অত্র ধারামিলাইয়া পড়িতে হইবে এবং তদানুসারে উক্ত মেয়াদ আর বর্ধিত হইবে না; কিন্তু স্বত্বাধিকারীএই অধিকার লাভের সময় যদি তাহার কোনো অপারগতা থাকিয়া থাকে, তবে সেইক্ষেত্রে ইহারব্যতিক্রম হইবে ।
ধারা-৯ (সময়ের অবিরাম চলন (Continuous running of time) : একবার তামাদির মেয়াদ অতিবাহিত হইতে আরম্ভ হইলে পরবর্তী কোনো অপারগতা বাঅক্ষমতার দ্বারা তাহা বন্ধ হইবে না ।
তবে শর্ত থাকে যে, যেইক্ষেত্রে পাওনাদারের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ন্যস্ত থাকিবে, ততদিনউক্ত দেনার টাকা আদায়ের মামলার মেয়াদ অতিবাহিত হওয়া স্থগিত থাকিবে ।
একবার তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইতে শুরু হইলে তত্ পরবর্তী মামলা দায়েরের কোনোঅযোগ্যতা বা অক্ষমতা উহা রোধ করিতে পারিবে না । তামাদি আইনের বিধান একটা চলমানপ্রতিবন্ধকতা । তামাদি শুরু হইলে তাহা চলিতে থাকিবে । যাহার বিরুদ্ধে প্রতিকার প্রার্থণা করাহইবে, সেই বিবাদী যদি বাদীর দাবী স্বীকার না করিয়া থাকে,তাহা হইলে অন্য কোনো অজুহাতেতামাদি এড়ানো যাইবে না । বিবাদীর নিকট হইতে স্বীকৃতি আদায় করিতে হইলে তাহা অবশ্যইস্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক হইতে হইবে ।
তবে শর্ত হইল, যেইক্ষেত্রে কোনো পাওনাদারকে দেনাদারের সম্পত্তি কারবার পরিচালনারপত্রনামা প্রদান করা হইয়াছে, ঐ পরিচালনা অব্যাহত থাকাকালে ঋণ উসুলের জন্য মামলা করিবারনির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া পর্যন্ত মূলতবী থাকিবে ।
ধারা-১০ (প্রকাশ্য অছি এবং তাহাদের প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে মামলা (Suits against express trustees and their representatives) :
তামাদি আইনে ইতিপূর্বে যাহাই থাকুক না কেন, যেই ব্যক্তির উপর সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্দেশ্যেসম্পত্তি ট্রাস্ট ন্যস্ত হইয়াছে, তাহার বিরুদ্ধে বা তাহার আইনানুগ প্রতিনিধির বিরুদ্ধে বা স্বত্বর্পিতব্যক্তির (মূল্যভিত্তিক পণ্যের বিনিময়ে স্বত্বার্পিত না হইয়া থাকিলে) তাহার বা তাহাদের হাতেরঅনুরূপ সম্পত্তির হিসাবের বা উহার আয়ের হিসাবের জন্য কোনো মামলা দায়ের করিতে হইলেতাহা কখনও সময়ের দৈর্ঘ্যে বারিত হইবে না ।
এই ধারার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে হিন্দু, মুসলিম বা বৌদ্ধ ধর্মীয় বা দাতব্য উদ্দেশ্যে উত্সর্গীকৃতকোনো সম্পত্তি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ট্রাষ্টে ন্যস্ত সম্পত্তি বলিয়া বিবেচিত হইবে এবং অনুরূপসম্পত্তির ব্যবস্থাপক উহার অছি বলিয়া গণ্য হইবে ।
ধারা-১১ ( বৈদেশিক চুক্তির উপর মামলা (Suits on foreign contracts) : (১) বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে যেইসব মামলা দায়ের করা হয়, সেইগুলি অত্রআইনে বিধৃত তামাদির বিধিসমূহের অধীন ।
(২) বিদেশে সম্পাদিত চুক্তির উপর বাংলাদেশে দায়েরকৃত মামলার ক্ষেত্রে বিদেশী কোনো আইনেতামাদি সংক্রান্ত বিধি জবাবস্বরূপ গ্রাহ্য হইবে না ।
তবে যদি সেই বিধি অনুসারে চুক্তিটির পরিসমাপ্তি ঘটিয়া থাকে এবং যদি উক্ত বিধি অনুসারেনির্ধারিত সময়কালে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণ সেই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করিয়া থাকে, সেইক্ষেত্রেইহার ব্যতিক্রম হইবে ।
তৃতীয় অধ্যায়
PART-III
তামাদির মেয়াদ গণনা
COMPUTATION OF PERIOD OF LIMITATION
ধারা-১২ ( আইনানুগ কার্যধারায় যেই পরিমাণ সময় গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে(Exclusion of time in legal proceedings) :
উপধারা-(১) কোনো মামলা আপিল বা দরখাস্তের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনাকরিতে, যেইদিন হইতে উক্ত মেয়াদ গণনা করিতে হইবে সেই দিন বাদ দিতে হইবে ।
উপধারা-(২) কোনো আপিল, আপিলের অনুমতির দরখাস্ত অথবা রায় । পুনরীক্ষণের দরখাস্তেরজন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, যেই রায় সম্পর্কে অভিযোগ করা ইহবে, তাহাযেইদিন ঘোষণা করা হইয়াছে, সেইদিন এবং যেই ডিক্রী, দন্ডাদেশ বা আদেশ সম্পর্কে আপিলকরা হইবে বা পুনরীক্ষণের প্রার্থণা করা হইবে, তাহার নকল গ্রহণ করিতে যেইসময় আবশ্যক,তাহা বাদ দিতে হইবে ।
উপধারা-(৩) যেইক্ষেত্রে ডিক্রী সম্পর্কে আপিল বা পুনরীক্ষণের প্রার্থণা করা হয়, সেইক্ষেত্রেউক্ত ডিক্রী যেই রায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত, সেই রায়ের নকল লইতে যেই সময় লাগে, তাহাও বাদদিতে হইবে ।
ধারা-১৩ (বাংলাদেশ এবং অন্যান্য কয়েকটি এলাকা হইতে বিবাদীর অনুপস্থিতকালীণ সময়গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে (Exclusion of time of defendants absence from bangladesh and certain other territories) :
কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে বাংলাদেশ বহির্ভূতকিন্তু বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রশাসিত এলাকা হইতে বিবাদীর অনুপস্থিত কাল বাদ দিতেহইবে ।
ধারা-১৪ (এখতিয়ারবিহীন আদালতে সমুদ্দেশ্যমূলক কার্যধারায় যেই সময় গণনা হইতে বাদদিতে হইবে (Exclusion of time of proceeding bonafide in court without jurisdiction) :
(১) কোনো মামলা দায়েরের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে, বাদী কোনোআদিম বা আপিল আদালতে বিবাদীর বিরুদ্ধে যদি অন্য একটা দেওয়ানী কার্যক্রম যথাবিহিতযত্ন সহকারে চালাইতে থাকে। তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত মামলা ও কার্যক্রমের কারণ যদি এক্ই হয়এবং এখতিয়ারগত ত্রুটি বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে যেই আদালত শেষোক্ত কার্যক্রমেরবিচার করিবার ক্ষমতা সম্পন্ন নহে, সেই আদালতে যদি সত্ বিশ্বাসে উহা দায়ের করা হইয়া থাকে,তবে শেষোক্ত কার্যক্রমে যেই সময় ব্যয়িত হয়, প্রথমোক্ত মামলার মেয়াদ গণনা হইতে তাহা বাদদিতে হইবে ।
যথাযথ সতর্কতা ও সচেষ্ট প্রয়োগ সত্বেও একজন যুক্তিবান ও পরিণামদর্শী মানুষের পক্ষে যেইধরনের ভুল হওয়া স্বাভাবিক, শুধুমাত্র ঐ ধরনের ভুলের ব্যাপারে জড়িত মামলার ক্ষেত্রেই এইধারার বিধান অনুসারে সুবিধাদান করা যাইতে পারে । নিম্নতর আপিল আদালত যেইক্ষেত্রেযথাযথভাবে অত্র ধারার আওতায় উহার স্ববিচার ক্ষমতা প্রয়োগ করে, সেইক্ষেত্রে হাইকোর্টউহাতে হস্তক্ষেপ করিয়া থাকেনা ।
আপিলের জন্য সময় গণনাকালে অত্র ধারাটি প্রয়োগ ঘটে না । তবে ইহার যুক্তিযুক্ত মূলনীতি এবংএই ধারায় ভাবিত পরিস্থিতি যথাসময়ে আপিল উপস্থাপন করিবার জন্য ৫ ধারার অর্থ অনুসারেপর্যাপ্ত কারণ হিসাবে সাধারণত গ্রাহ্য হইতে পারে ।
ধারা-১৫। কার্যক্রম স্থগিত থাকাকালীন সময় বাদ দিতে হইবে (Exclusion of time during which proceedings are suspended) :
(১) যেই মামলা বা ডিক্রী জারির দরখাস্ত দায়ের বা জারি কোনো নিষেধাজ্ঞা বা আদেশ দ্বারা স্থগিতরাখা হইয়াছে, তাহার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময়, যতদিন উহা নিষেধাজ্ঞা বাআদেশ বলবত্ ছিল, যেইদিন উহা প্রদত্ত হইয়াছিল এবং যেইদিন উহা প্রত্যাহার করা হইয়াছিল,তাহা বাদ দিতে হইবে।
(২) যেই মামলার জন্য বর্তমানে বলবত্ অন্য কোনো আইনের বিধান অনুসারে নোটিশ দেওয়াহইয়াছে, তাহার জন্য নির্ধারিত মেয়াদ গণনায় নোটিশের কাল বাদ দিতে হইবে।
ধারা-১৬। ডিক্রী জারির বিক্রয় রদ করিবার কার্যধারা মূলতবী থাকাকালীন সময় বাদ দিতেহইবে (Exclusion of time during which proceedings to set aside execution sale are pending) :
ডিক্রী জারির নিলামে খরিদা সম্পত্তির দখল পাইবার জন্য নিলাম খরিদ্দার কর্তৃক মামলা দায়েরকরিবার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনার সময় নিলাম রদের জন্য দায়েরকৃতকার্যধারা যতদিন চলিয়াছে, তাহা উক্ত মেয়াদ গণনা হইতে বাদ দিতে হইবে।
ধারা-১৭। মামলা করিবার অধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত্যুর ফলাফল (Effect of death before right to sue accrues) :
(১) যেই ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকিলে একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবারঅধিকারী হইতো, কিন্তু সেই ব্যক্তি উক্ত অধিকার সৃষ্টি হইবার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করে, সেইক্ষেত্রেমৃত ব্যক্তির আইনানুগ প্রতিনিধি উক্ত মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার যোগ্যতাসম্পন্নহইবার সময় হইতে তামাদি মেয়াদ গণনা করা হইবে।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি জীবিত থাকিলে তাহার বিরুদ্ধে কেহ একটা মামলা দায়ের বাদরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকার লাভ করিতো, কিন্তু সেই ব্যক্তি উক্ত অধিকার সৃষ্টি হইবার পূর্বেইমৃত্যুবরণ করে, সেইক্ষেত্রে যখন মৃত ব্যক্তির এইরূপ কোনো আইনানুগ প্রতিনিধি থাকিবে, যাহারবিরুদ্ধে বাদী মামলা দায়ের বা দরক্ষাস্ত দাখিল করিতে পারিবে, তখন হইতে তামাদি মেয়াদ গণনাকরা হইবে।
(৩) সম্পত্তি প্রয়োগের অগ্রাধিকার প্রয়োগের মামলা অথবা স্থাবর সম্পত্তি সম্পর্কিত দখল বাবংশগত কোনো পদলাভ সম্পর্কিত মামলার ক্ষেত্রে উপরোক্ত (১) ও (২) উপধারার কোনো কিছুইপ্রযোজ্য নহে।
ধারা-১৮। প্রতারণার ফলাফল (Effect of Fraud) :
যেইক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি একটা মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিল করিবার অধিকারী হয়, কিন্তুপ্রতারণার মাধ্যমে তাহাকে সেই অধিকারের বিষয় অথবা যেই স্বত্বের উপর উক্ত অধিকার প্রতিষ্ঠিতকরিবার জন্য যেই দলিল প্রয়োজনীয়, তাহা প্রতারণা করিয়া তাহার নিকট হইতে গোপন রাখাহইয়াছে, সেই সকল ক্ষেত্রে-
(ক) প্রতারণার জন্য দোষী ব্যক্তির বা তাহার সহযোগীর বিরুদ্ধে, অথবা
(খ) যেই ব্যক্তি সরল বিশ্বাসে এবং মূল্যের বিনিময় ভিন্ন অন্য প্রকারে উক্ত দোষী ব্যক্তির মাধ্যমেস্বত্ব দাবি করে, তাহার বিরুদ্ধে- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন প্রতারণার কথা জানিতে পারে,সেইদিন হইতে অথবা দলিল গোপন করা হইয়া থাকিলে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন হইতেঅথবা দলিল গোপন করা হইয়া থাকিলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি সর্বপ্রথম যেইদিন দলিলটি উপস্থাপনকরিতে সমর্থ হয় বা অপর পক্ষকে উহা উপস্থাপন করিবার জন্য বাধ্য করিতে পারে, সেইদিনহইতে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলের জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ গণনা করিতেহইবে।
ধারা-১৯। লিখিত প্রাপ্তি স্বীকারের ফলাফল (Effect of acknow-ledgement in writing) :
উপধারা-(১) যেই ক্ষেত্রে কোনো সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কে মামলা দায়ের বা দরখাস্ত দাখিলকরিবার জন্য নির্ধারিত তামাদির মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবার পূর্বেই যেই পক্ষের নিকট হইতে উক্তসম্পত্তি বা অধিকার দাবি করা হইতেছে, সেই পক্ষ স্বয়ং অথবা যাহার মাধ্যমে তিনি উক্ত সম্পত্তিরস্বত্ব বা দায় প্রাপ্ত হইয়াছেন, সেই ব্যক্তি লিখিত স্বাক্ষরিতভাবে উক্ত সম্পত্তি বা অধিকার সম্পর্কেদায় স্বীকার করেন, সেই ক্ষেত্রে উক্তরূপ স্বীকৃতি স্বাক্ষরিত হইবার সময় হইতে নূতন করিয়া মেয়াদগণনা করিতে হইবে।
উপধারা-(২) উক্ত লিখিত স্বীকৃতিতে কোনো তারিখ না থাকিলে, উহা স্বাক্ষর করিবার সময়সম্পর্কে সাক্ষ্য দেওয়া যাইতে পারে, কিন্তু ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের বিধান সাপেক্ষে উহারবিষয়বস্তু সম্পর্কে কোনো মৌলিক সাক্ষ্য দেওয়া যাইবে না।
ব্যাখ্যা-১। ১৯ ধারার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে স্বীকৃতি যথেষ্ট হইতে পারে, যদিও সম্পত্তি বা অধিকারেরসঠিক প্রকৃতি সম্পর্কে উহাতে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নাই, অথবা যদি উহাতে বলা হয় যে, টাকাপরিশোধ, পণ্য আপণ চুক্তি পালন বা কিছু ভোগদখলের সময় এখনও আসে নাই, অথবা যদিসংশ্লিষ্ট স্বীকৃতির সহিত টাকা পরিশোধ করিতে, পণ্য অর্পণ করিতে, চুক্তি সম্পাদন করিতে বাকিছু ভোগদখল করিবার অনুমতি দিতে অস্বীকৃতিও জ্ঞাপন করা হয়, অথবা যদি উহার সহিতশোধবাদের কোনো দাবি উপস্থাপন করা হয় অথবা যদি উহা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি বা অধিকারের স্বত্ববানব্যক্তি ভিন্ন অপর কোনো ব্যক্তির উদ্দেশ্যে লিখিত হয়।
ব্যাখ্যা-২। ১৯ ধারার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে ‘স্বাক্ষরিত’ কথাটির দ্বারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বয়ং বা এইব্যাপারে যথাবিহিতরূপে তাহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি কর্তৃক স্বাক্ষরিত বুঝাইবে।
ব্যাখা-৩। ১৯ ধারার উদ্দেশ্য সাধনকল্পে কোনো ডিক্রী জারি বা আদেশ কার্যকর করিবার দরখাস্তএকটা অধিকার সম্পর্কিত দরখাস্ত বলিয়া গণ্য হইবে।
ধারা-২০। উত্তর দায় সংক্রান্ত ঋণ পরিশোধের অথবা সুদ প্রদানের ফলাফল (Effect of payment on account of debt or of interest on legacy) :
উপধারা-(১) যেইক্ষেত্রে কোনো দেনা অথবা দায়ের সুদ বাবদ নির্ধারিত মেয়াদ উত্তীর্ণ হইবারপূর্বে উক্ত দেনা বা দায় পরিশোধ করিতে দায়ী ব্যক্তি স্বয়ং বা তাহার যথাযথ ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিকোনো অর্থ প্রদান করে, সেইক্ষেত্রে উক্ত অর্থ প্রদানের তারিখ হইতে নূতন করিয়া তামাদিমেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
তবে শর্ত থাকে যে, ১৯২৮ সালের ১লা জানুয়ারির পূর্বে সুদ পরিশোধের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্যসকল ক্ষেত্রে, যেই ব্যক্তি অর্থ প্রদান করিবে, স্বীকৃতি তাহার স্বহস্তে লিখিত ও স্বাক্ষরিত অথবাঅপরের লিখিত হইলেও তত্কর্তৃক স্বাক্ষরিত হইবে।
উপধারা-(২) বন্ধকী জমির প্রাপ্তির রসিদের ফলাফল (Effect of receipt of produce of mortgage land) : যেইক্ষেত্রে বন্ধক দেওয়া জমি বন্ধক গ্রহীতার দখলে থাকে, সেইক্ষেত্রেঅনুরূপ জমির খাজনা বা ফসল প্রাপ্তির রসিদ ১ উপধারার উদ্দেশ্যে অর্থ প্রদান বলিয়া বিবেচিতহইবে।
ব্যাখ্যা : দেনা বলিতে আদালতের ডিক্রী বা আদেশের অধীন প্রদেয় অর্থও বুঝাইবে।
ধারা-২১। অক্ষম ব্যক্তির প্রতিনিধি (Agent of person under disability) :
উপধারা-(১) অত্র আইনের ১৯ ও ২০ ধারায় ‘তাহার পক্ষে যথাবিহিতরূপে ক্ষমতাপ্রাপ্তপ্রতিনিধি’ বলিতে অপারগতাগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাহার আইন সম্মত অভিভাবক, কমিটি বাম্যানেজারকে অথবা অনুরূপ অভিভাবক, কমিটি বা ম্যানেজার কর্তৃক স্বীকৃতি স্বাক্ষর করিবার বাঅর্থ প্রদান করিবার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে বুঝাইবে।
উপধারা-(২) যৌথ চুক্তিকারী প্রভৃতির একজন কর্তৃক স্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান(Acknowledgment or payment by one of several joint contractors, etc.) :উপরোক্ত ধারাগুলি কোনো বিধানবলে যৌথ চুক্তিকারী, অংশীদার, নির্বাহক বা বন্ধকগ্রহীতাগণেরমধ্যে একজনের বা একাধিক জনের অথবা তাহাদের একজনের বা একাধিকজনের প্রতিনিধিরস্বাক্ষরিত কোনো লিখিত স্বীকৃতির ফলে বা অর্থ প্রদানের ফলে অপরজনকে কোনো দেনার জন্যদায়ী করা যাইবে না।
উপধারা-(৩) উপেরাক্ত ধারাগুলির উদ্দেশ্য সাধনকল্পে--
(ক) হিন্দু আইনের আওতাধীন কোনো বিধান অথবা কোনো সম্পত্তিতে সীমিত স্বত্বে স্বত্ববান কোনোব্যক্তি বা তাহার যথাবিহিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধি কর্তৃক কোনো দায়েরের ব্যাপারে স্বাক্ষরিতস্বীকৃতি বা অর্থ প্রদান উক্ত দায়ের পরবর্তী উত্তরাধীকারীর প্রতিকূলে বৈধ স্বীকৃতি বা অর্থপ্রদান হিসাবে গণ্য হইবে।
(খ) যেইক্ষেত্রে কোনো অবিভক্ত হিন্দু পরিবার বা তত্পক্ষে কেহ কোনো দায়গ্রস্ত হইয়াছে,সেইক্ষেত্রে উক্ত পরিবারের ম্যানেজার বা তাহার যথাবিহিত ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো প্রতিনিধি কোনোস্বীকৃতিদান বা অর্থ প্রদান করিলে তাহার সমগ্র পরিবারের পক্ষ হইতে করা হইয়াছে বলিয়াবিবেচিত হইবে।
ধারা-২২। নূতন বাদী বা বিবাদীকে কাহারও স্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করিবার ফলাফল(Effect of substituting or adding new plaintiff or defendent) :
উপধারা-(১) যেইক্ষেত্রে মামলা দায়ের করিবার পর নূতন কোনো বাদী বা বিবাদীকে কাহারওস্থলাভিষিক্ত বা পক্ষভুক্ত করা হয়, সেইক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি যেই তারিখে অনুরূপ পক্ষভুক্ত হইয়াছে,তাহার জন্য মামলাটি সেই তারিখে দায়ের করা হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।
উপধারা-(২) যেইক্ষেত্রে মামলা মুলতবী থাকাকালে স্বত্বার্পণ বা কোনো স্বত্ব হস্তান্তরের কারণেকাহাকেও পক্ষভুক্ত বা স্থলাভিষিক্ত করা হয় অথবা যেইক্ষেত্রে বাদীকে বিবাদী কিংবা বিবাদীকেবাদীতে রূপান্তরিত করা হয়, সেইক্ষেত্রে ১ উপধারার কোনো কিছুই প্রযোজ্য হইবে না।
ধারা-২৩। অবিরাম চুক্তিভঙ্গ বা অন্যায় করা (Continuing breaches and wrongs) :
যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি ভঙ্গ করা হয় এবং যেইক্ষেত্রে অবিরাম চুক্তি নিরপেক্ষভাবে অন্যায় করাহয়, সেইক্ষেত্রে চুক্তি ভঙ্গ বা অন্যায় চলাকালীন সময়ের প্রতি মুহূর্তেই নূতন করিয়া তামাদিরমেয়াদ অতিবাহিত হইতে শুরু করে।
এমন অনেক চুক্তি রহিয়াছে, যাহা ভঙ্গ হইলে প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণ উদ্ভব হইতে পারে। চুক্তিবহির্ভূত এমন অনেক লোকসান রহিয়াছে, যাহা প্রতিমুহূর্তে নালিশের কারণের উদ্ভব ঘটায়।এইসব ক্ষেত্রে তামাদির মেয়াদ প্রতিমুহূর্তে বৃদ্ধি পায়।
ধারা-২৪। বিশেষ ক্ষতির কারণ না হইলে যেই কাজের জন্য মামলা করা যায় না, তাহার জন্যক্ষতিপূরণের মামলা (Suit for compensation for act not actionable without special damage) :
যেই কার্যের দ্বারা বাস্তবিক পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষতি সাধিত না হইলে কোনো মামলার কারণউদ্ভুত হয় না, তদ্রূপ কার্যের দরূন ক্ষতিপূরণের মামলার জন্য যখন ক্ষতি হয়, তখন হইতেতামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
উদাহরণ :
‘ক’ একটা জমির উপরিভাগের মালিক। ‘খ’ ঐ জমির ভূ-গর্ভের মালিক। উপরিভাগেরতাত্ক্ষণিক স্পষ্ট কোনো ক্ষতি না করিয়া ভূ-গর্ভ হইতে কয়লা খনন ও উত্তোলন করে । কিন্তুঅবশেষে জমিটির উপরিভাগ ধ্বসিয়া পড়ে। এইক্ষেত্রে ‘ক’ কর্তৃক ‘খ’-এর বিরুদ্ধে মামলাদায়ের তামাদির মেয়াদ ধ্বসিয়া পড়ার সময় হইতে শুরু হইবে।
ধারা-২৫। দলিলের উল্লিখিত সময়ের গণনা (Computation of time mentioned in instruments) :
এই আইনের উদ্দেশ্য সাধনকল্পে যাবতীয় দলিল গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে প্রণীত বলিয়াবিবেচিত হইবে।
উদাহরণ :
(ক) জনৈক হিন্দু একটা অঙ্গীকার পত্রে স্থানীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে তারিখ উল্লেখ করে।অংগীকারপত্রটি ঐ তারিখ হইতে চার মাস পর পরিশোধযোগ্য। এক্ষণে এই অংগীকারপত্রের দরুনমামলা দায়ের করিতে হইলে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে ঐ তারিখ হইতে চার মাস অতিবাহিতহইবার পর হইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
(খ) জনৈক হিন্দু এক বত্সরের মধ্যে টাকা পরিশোধের শর্তে একটা মুচলেকা দেয় এবংতাহাতে স্থানীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে তারিখ উল্লেখ করে, এক্ষণে মুচলেকার দরুন মামলা দায়েরকরিতে হইলে গ্রেগরীয়ান বর্ষপঞ্জী অনুসারে তারিখ হইতে এক বত্সর অতিবাহিত হইবার পরহইতে তামাদির মেয়াদ গণনা করিতে হইবে।
চতুর্থ অধ্যায়
PART-IV
দখলবলে মালিকানা স্বত্ব অর্জন
ACQVISITION OWNERSHIP BY POSSESSION
ধারা-২৬। সুখাধিকারসমূহ অর্জন (Acquisition of right to easements) :
উপধারা-(১) যেইক্ষেত্রে কোনো দালানে আলো বা বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার সুখাধিকার হিসাবেএবং অধিকার হিসাবে অব্যাহতভাবে এবং বিশ বত্সর যাবত্ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগ করা হইয়াছেএবং যেইক্ষেত্রে কোনো পথ বা জলস্রোত অথবা কোনো পানির ব্যবহার অথবা অন্য যেই কোনোসুখাধিকার (ইতিবাচক, নেতিবাচক যাহাই হউক না কেন) কোনো ব্যক্তি সুখাধিকার ও অধিকারহিসাবে উহাতে স্বত্ব দাবি করিয়া অব্যাহতভাবে এবং বিশ বত্সর যাবত্ শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যেভোগ করিয়াছে, সেইক্ষেত্রে অনুরূপ আলো-বাতাসের প্রবেশ ও ব্যবহার, পথ, জলস্রোত, পানিরব্যবহার অথবা অন্য কোনো সুখাধিকার নিরষ্কুশ ও অলংঘনীয় অধিকারে পরিণত হইবে।
যদি কোনো মামলায় উক্তরূপ কোনো অধিকারের দাবির বিরোধিতা করা হয়, সেই মামলায় উক্তউভয় ক্ষেত্রেই বিশ বত্সর বলিতে মামলা দায়েরের তারিখের অব্যবহতি পূর্ববর্তী দুই বত্সরেরমধ্যে সমাপ্ত বিশ বত্সর বুঝাইবে।
উপধারা-(২) যেই সম্পত্তির উপর (১) উপধারা অনুসারে অধিকার দাবি করা হয়, তাহা যদিসরকারের সম্পত্তি হয়, তবে উক্ত উপধারায় ‘বিশ
ব্যাখ্যা : এই ধারার অর্থানুসারে কোনো কিছুই ব্যাহত হইবে না যদি দাবিদার ব্যতীত অন্য কোনোলোকের কার্য দ্বারা বাধার ফলে দখল বা ভোগ প্রকৃত বিরতি না হয় এবং যদি উক্ত বাধা মানিয়া নালওয়া হয় অথবা উহাতে মৌন সম্মতি প্রকাশ না করা হয় এবং তাহা দাবিদারের গোচরীভুত হইবারপর এক বত্সর অতিবাহিত হয়।
উদাহরণ :
(ক) পথ চলার অধিকারে বাধা প্রদানের জন্য ১৯১১ সালে একটা মামলা দায়ের করা হয়। বিবাদীবাধা প্রদানের কথা স্বীকার করে। কিন্তু পথ চলার অধিকারের প্রতি অস্বীকৃতি জানায়। বাদী প্রমাণকরিয়া থাকে যে, সে এই অধিকার ১৮৯০ সালের ১লা জানুয়ারি হইতে ১৯১০ সালের ১লাজানুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহতভাবে উহাতে সুখাধিকার হিসাবে স্বত্ব দাবি করিয়া শান্তিপূর্ণভাবে ওপ্রকাশ্যে ভোগ করিয়াছে। বাদী স্বীয় অনুকূলে রায় পাইবার অধিকারী।
(খ) অনুরূপ এক মামলায় বাদী দাবি করিয়া থাকে যে, সে এই অধিকার শান্তিপূর্ণভাবে ও প্রকাশ্যেবিশ বত্সর যাবত ভোগ করিয়াছে, বিবাদী প্রমাণ করিয়া থকে যে, ঐ বিশ বত্সরের মধ্যে বাদীএকবার এই অধিকার ভোগের জন্য তাহার অনুমতি প্রার্থণা করিয়াছিল। মামলাটি খারিজ হইয়াযাইবে।
ধারা-২৭। পার্শ্ববর্তী এলাকার ভাবী উত্তরাধিকারীর পক্ষে সময়ের অব্যাহতি (Exclusion in favour of reversioner of servient tenement) :
যেইক্ষেত্রে কোনো জমি বা পানির সুখাধিকার কোনো জীবনস্বত্ব বা তিন বত্সরের অধিককালেরমঞ্জুরকৃত স্বত্ববলে প্রাপ্ত হইয়াছে, বা ভোগ করা গিয়াছে, সেইক্ষেত্রে উক্ত স্বত্ব বাতিল হইবারপরবর্তী তিন বত্সরের মধ্যে যদি স্বত্ব লাভের অধিকারী ব্যক্তি অনুরূপ জমি বা পানি সম্পর্কেউক্তরূপ দাবির বিরোধিতা করে, তবে বিশ বত্সর গণনা করিবার সময় উপরোক্ত জীবনস্বত্ব বামঞ্জুরী বহাল থাকাকালে সুখাধিকার যতদিন ভোগ করা গিয়াছে, বিশ বত্সর হইতে সেই সময় বাদদিয়া গণনা করিতে হইবে ।
উদাহরণ :
ক-একটা মামলা দায়ের করিয়া খ-এর জমির উপর তাহার পথ চলার অধিকার ঘোষণা প্রার্থণা করে। ক প্রমাণ করিয়া থকে যে, সে পঁচিশ বত্সর যাবত এই অধিকার ভোগ করিয়াছে । খ দেখায়যে, উক্ত পঁচিশ বত্সরের মধ্যে দশ বত্সর উক্ত জমির উপর গ-নাম্নী এক হিন্দু বিধবার জীবনস্বত্ববিদ্যমান ছিল এবং গ-এর মৃত্যুর পর খ উক্ত জমিতে স্বত্বলাভ করিয়া থাকে এবং গ-এর মৃত্যুর পরদুই বত্সরের মধ্যে খ ক-এর দাবির বিরোধিতা করিয়াছে । এই ক্ষেত্রে মামলাটি খারিজ হইয়াযাইবে । কারণ এই ধারার বিধানাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে ক মাত্র পনরো বত্সর অধিকার ভোগকরিয়াছে বলিয়া প্রমাণ করিয়াছে ।
ধারা-২৮। সম্পত্তির অধিকার বিলুপ্তি (Extinguishment of right to property) :
কোনো সম্পত্তি দখল প্রাপ্তির জন্য মামলা দায়ের করিবার ব্যাপারে এই আইনে যেই মেয়াদনির্ধারিত করিয়া দেওয়া হইয়াছে, তাহা উত্তীর্ণ হইবার পর সেই সম্পত্তিতে বাদীর অধিকারবিলুপ্ত হইয়া যাইবে ।
বিরুদ্ধ-দখলের মাধ্যমে একটা সম্পত্তি বৈধ স্বত্ব অর্জিত হইতে পারে। বিরুদ্ধ উপাদানগুলিহইলো :
(১) বাদীর বৈধ স্বত্ব ও অধিকারের উপর ‘বিরুদ্ধ-দখল’ প্রতিষ্ঠিত হইতে হইবে ।
তামাদি আইনের দখল উদ্ধারের জন্য তামাদির মেয়াদ প্রথম তফসিলে নির্ধারিত রহিয়াছে ।এই নির্ধারিত সময় পার হইয়া গেলে ঐ সম্পত্তির উপর দাবীকারীর স্বত্ব লোপ পায়।
কোনো ব্যক্তি যদি অন্যের সম্পত্তি প্রকাশ্যভাবে মালিকের গোচরে ১২ বত্সরের উর্ধ্বকাল দখলকরিয়া থাকে, তবে সেইক্ষেত্রে জবরদখলকারীর স্বত্ব পাকা হয় এবং আসল মালিকের স্বত্ব নষ্ট হয়।
পঞ্চম অধ্যায়
PART-V
সংরক্ষণ ও বাতিল
SAVINGS AND REPEALS
ধারা-২৯। সংরক্ষণ (Savings) :
(১) এই আইনের কোনো বিধান ১৮৭২ সালের চুক্তি আইনের (১৮৭২ সালের ৯নং আইনে) ২৫ধারাকে প্রভাবিত করিবে না।
(২) যেইক্ষেত্রে কোনো বিশেষ আইনে কোনো মামলা, আপিল বা দরখাস্তের জন্য এই আইনেরপ্রথম তফসিলে নির্ধারিত মেয়াদ অপেক্ষা ভিন্নতর মেয়াদের বিধান রহিয়াছে, সেইক্ষেত্রে এইআইনের ৩ ধারার বিধানসমূহ এইরূপভাবে প্রযোজ্য হইবে, যেন উক্ত ভিন্নতর মেয়াদ এই আইনেরবিধান অনুসারে কোনো মামলা, আপিলে বা দরখাস্তের তামাদির মেয়াদ গণনার উদ্দেশ্যে-
(ক) এই আইনের ৪ ধারা, ৯ হইতে ১৮ ধারা ও ২২ ধারার বিধানসমূহ সেই পরিমাণে প্রযোজ্যহইবে, যেই পরিমাণ উহা উক্ত বিশেষ আইনের ষ্পষ্ট বহির্ভূত নহে; এবং
(খ) এই আইনের অবশিষ্ট বিধানসমূহ প্রযোজ্য হইবে না।
(৩) এই আইনের কোনো বিধান বিবাহ-বিচ্ছেদ আইন (১৮৬৯ সালের ৪ নং আইন) অনুসারেআনীত মামলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না।
(৪) যেই সকল এলাকায় ১৮৮২ সালের সুখাধিকার আইনের আওতা আপাতত সম্প্রসারিত করাহইবে, সেই সকল এলাকা হইতে উদ্ভূত মামলার ক্ষেত্রে আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা এবং ২ ধারায়বর্ণিত ‘সুখাধিকার’ এবং সংজ্ঞা প্রযোজ্য হইবে না
মরিয়ম আক্তার প্রাপ্তি কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরশহরের আইডিয়াল স্কুলের ছাত্রী। এবার সে অষ্টম শ্রেণিতে উঠেছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাড়পত্রে তার জন্মতারিখ ০২/০১/২০০২ ইং। সে অনুযায়ী শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) তার বয়স হয় ১৩ বছর এক মাস ১৯ দিন। ওই দিনই মহা ধুমধামে তার বিয়ে হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে বৌভাত।
এ বিয়ে নিয়ে এলাকায় দুই দিন ধরে আলোচনার ঝড় বইছে। মানুষের মুখে মুখে ফিরছে নানা কথা। ব্যাপক গুঞ্জনের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেল, বিয়েতে প্রধান সাক্ষী (উকিল সাক্ষী) হয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সাহার নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য এ বিয়েতে দাওয়াত খেয়েছেন।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছারোয়ার আলম, বাজিতপুর পৌরসভার মেয়র এহেসান কুফিয়া, কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যান, পৌরসভার কয়েকজন কাউন্সিলর, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার প্রায় চার হাজার মানুষ বিয়েতে নিমন্ত্রিত হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
থানার সীমানাঘেঁষা চারবাড়ির দেওয়ানজীবাড়িতে এ বাল্যবিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বিঘ্নেই। কনের বাবার নাম আব্দুল করিম। বর উপজেলার দিলালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিজবাহউদ্দিন খান শাফীর ছেলে আমিরুল হক খান শিমুল।
গতকাল শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ছিল বৌভাত। বরের বাড়ি দিলালপুরের বাগপাড়ায় অনুষ্ঠিত বৌভাতে নিমন্ত্রিত হয়ে হাজির হয়েছিলেন স্বয়ং উপজেলা বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ জেড এম শারজিল হাসান।
পৌরসভার ৭, ৮, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিবাহ রেজিস্ট্রার (কাজি) নিয়াজুল ইসলাম জানান, বিয়ের কাবিননামায় দেনমোহর দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা। উকিল সাক্ষী হয়েছেন এমপি সাহেব। তবে এ বিয়ের নিবন্ধন হয়নি। এর কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান, কনের বয়স কম সন্দেহ হওয়ায় বিয়ে নিবন্ধন করেননি তিনি। জন্মসনদ হাতে পাওয়ার পর নিবন্ধন করা হবে।
বিয়েতে নিমন্ত্রণ পাওয়া কয়েক ব্যক্তি কালের কণ্ঠকে জানান, বিয়ের দাওয়াত খেতে গিয়ে তাঁরা বাজিতপুরের ইউএনও, ওসি, উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়রসহ গণ্যমান্য অনেককেই উপস্থিত দেখেছেন। নাম প্রকাশ না করে একজন জানান, এটি নিশ্চিত বাল্যবিয়ে। জেনেশুনে একটি অপরাধমূলক কাজে নিজেকে জড়াবেন না ভেবে দাওয়াত পেয়েও বিয়েতে যাননি তিনি।
কনে প্রাপ্তির এক সহপাঠীর বাবা আক্ষেপ করে বলেন, একটি শিশুকে এভাবে বিয়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। আবার কেউ কেউ বলেন, 'আইনের লোকজনই যদি আইনকে এভাবে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান, সাধারণ মানুষের আর কী করার থাকে?' প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অনেকেই নাম-পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলতে চাননি।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শাফিউদ্দিন জানান, তাঁর এক অফিস স্টাফের মাধ্যমে তিনি এ বিয়ের ঘটনাটি জেনেছিলেন। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না করায় বিয়েটি রোধের ব্যবস্থা নিতে পারেননি। তিনি আরো বলেন, 'প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরা যেখানে উপস্থিত ছিলেন, সেখানে আমি আর কী করতে পারি!'
বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত কুমার সাহা জানান, তিনি এ বিয়েতে দাওয়াত খেয়েছেন। তবে বাল্যবিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কনে বা বরের বাবার সঙ্গে কথা বলাও সম্ভব হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ জেড এম শারজিল হাসান গতকাল শনিবার বৌভাতে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'এটা যে বাল্যবিয়ে তা আমি জানতে পারিনি। জানলে বিয়ে ঠেকাতে না পারি, অন্তত ব্যাখ্যা চাইতে পারতাম।'
বিয়ের প্রধান সাক্ষী কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেন বরের বাবার মামাতো ভাই। তিনি বিয়ের মূল সাক্ষী হওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, কনের বয়স যে কম তা তিনি জানেন না। জানলে এত ঢাকঢোল পিটিয়ে বিয়ের আয়োজন করতে দিতেন না। সংবাদ সূত্র: কালের কন্ঠ/ /2015/02/22/ছবি: ইন্টারনেট থেকে
- See more at: http://www.kalerkantho.com/print-edition/last-page/2015/02/22/190715#sthash.7IljBF5L.dpuf
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইন, ১৯৭৩-এর সংশোধনের খসড়া মন্ত্রিসভার আগামী অথবা পরের বৈঠকে উঠবে। আজ বুধবার দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুস সুবহানকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আইনমন্ত্রী। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আজ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের আগস্ট মাসে তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের ২৫ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে তদন্ত সংস্থা। এরপর আনুষ্ঠানিক অভিযোগ প্রস্তুতির কাজ শুরু করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওই সময় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছিলেন, ট্রাইব্যুনালের বিদ্যমান আইনে সংগঠনের বিচার ও শাস্তির বিধান নেই। মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রস্তুতিতে ছেদ পড়ে। এরপর আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় আইন মন্ত্রণালয়।
সৌজন্যে: প্রথম আলো
সৌজন্যে: প্রথম আলো
একাত্তরে গুপ্তঘাতক আলবদর বাহিনীর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সংগঠক মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় আজ বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে আজ পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই করেন বিচারপতিরা। সুপ্রিম কোর্টের সূত্র জানায়, পূর্ণাঙ্গ রায় ৫৭৭ পৃষ্ঠার। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে আপিল বিভাগের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করতে পারবেন দণ্ডিত ব্যক্তি ও রাষ্ট্রপক্ষ। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি হবে। জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা আবদুল কাদের মোল্লার পুনর্বিবেচনার আবেদন নিষ্পত্তি করে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই সিদ্ধান্ত দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই সিদ্ধান্ত কামারুজ্জামানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের দায়ে ২০১৩ সালের ৯ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন। ওই পাঁচটি অভিযোগে খালাস চেয়ে আপিল করেছিলেন কামারুজ্জামান। গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল শুনানি শেষে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। একই বছরের ৩ নভেম্বর ওই রায়ের আদেশের অংশটুকু ঘোষণা করা হয়।
একাত্তরে বর্তমান শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে গণহত্যা ও মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফাকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনাল-২ কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। আপিল বিভাগ আদেশের অংশে সোহাগপুরে গণহত্যার দায়ে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে বহাল রাখেন। তবে গোলাম মোস্তফা হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁকে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণীতে আজ সই করলেন চার বিচারপতি।
এই চার বিচারপতি হলেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
মুক্তিযুদ্ধকালে আলবদরের সংগঠক কামারুজ্জামান বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল। তিনি জামায়াতের দ্বিতীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, যিনি মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আপিল বিভাগেও মৃত্যুদণ্ডাদেশ পেয়েছেন। এর আগে জামায়াতের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ। ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর ওই রায় কার্যকর হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি আপিল বিভাগের তৃতীয় রায়। কাদের মোল্লাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর আপিল বিভাগ জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়েছিল।
চার অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত: কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ, একাত্তরের ২৯ জুন কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আলবদরের সদস্যরা শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলার রামনগর গ্রাম থেকে মুক্তিযোদ্ধা বদিউজ্জামানকে অপহরণ করে আহম্মেদনগর সেনাক্যাম্পে নিয়ে সারা রাত নির্যাতন করেন। পরদিন তাঁকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন। তবে আপিল বিভাগ কামারুজ্জামানকে সর্বসম্মতিক্রমে খালাস দিয়েছেন।
দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি একদিন কামারুজ্জামান ও তাঁর সহযোগীরা শেরপুর কলেজের অধ্যক্ষ সৈয়দ আবদুল হান্নানকে প্রায় নগ্ন করে শহরের রাস্তায় হাঁটাতে হাঁটাতে চাবুকপেটা করেন। এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আপিল বিভাগ এ দণ্ড বহাল রেখেছেন।
তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আলবদর বাহিনী, রাজাকার ও পাকিস্তানি সেনাসদস্যরা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালায় ও নারী ধর্ষণ করে। ওই বর্বরতার পর থেকে গ্রামটি বিধবাপল্লি নামে পরিচিত। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে এ অভিযোগে কামারুজ্জামানকে দোষী সাব্যস্ত করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির মতের ভিত্তিতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
চতুর্থ অভিযোগ: একাত্তরের ২৩ আগস্ট রাতে কামারুজ্জামানের নির্দেশে আলবদরের সদস্যরা শেরপুরের মোস্তফাবাগ থানার গৃদ্দা নারায়ণপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা ও আবুল কাসেমকে সেরিহ সেতুর কাছে নিয়ে গুলি করা হয়। গোলাম মোস্তফা মারা গেলেও আবুল কাসেম নদীতে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান। এই অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগ তা কমিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।
সপ্তম অভিযোগ: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পবিত্র ২৭ রমজান কামারুজ্জামানের নেতৃত্বে আলবদরের সদস্যরা ময়মনসিংহের কোতোয়ালি থানার কাঁচিঝুলি গ্রামের ট্যাপা মিয়া, তাঁর বড় ছেলে জহুরুল ইসলামসহ আরও পাঁচ ব্যক্তিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেন। তবে এঁদের মধ্যে ট্যাপা মিয়া নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়লে তাঁকে গুলি করা হয়। গুলি তাঁর পায়ে লাগে। এ অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ট্রাইব্যুনাল কামারুজ্জামানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে কামারুজ্জামানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন আপিল আদালত।
পঞ্চম অভিযোগ ও ষষ্ঠ অভিযোগ ছিল যথাক্রমে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পবিত্র রমজান মাসের মাঝামাঝি শেরপুরের চকবাজার এলাকা থেকে মো. লিয়াকত আলী, মুজিবুর রহমানসহ ১০ জনকে আহম্মেদনগর উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের কাছে গুলি করে হত্যা করা এবং একাত্তরের নভেম্বরে টুনু ও জাহাঙ্গীরকে অপহরণ করে ময়মনসিংহের জেলা কাউন্সিল ডাকবাংলোতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এ দুটি অভিযোগ থেকে কামারুজ্জামানকে খালাস দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
রাজধানীর পল্লবী থানায় করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ওই বছরের ২ অক্টোবর তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ২০১২ সালের ৪ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ তাঁর বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ গঠন করেন।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মুহাম্মদ আবদুস সুবহানের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বুধবার এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে বলা হয়, সুবহানের বিরুদ্ধে আনা নয়টি অভিযোগের মধ্যে ছয়টি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এ সাজা দেওয়া হয়।
রায়ের সংক্ষিপ্তসার থেকে জানা যায়, সুবহানের বিরুদ্ধে আনা নয়টি অভিযোগের মধ্যে ১, ৪ ও ৬ নম্বর অভিযোগে সুবহানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁকে ২ ও ৭ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ নম্বর অভিযোগে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রমাণ না হওয়ায় ৫, ৮ ও ৯ নম্বর অভিযোগ থেকে তাঁকে খালাস দেওয়া হয়। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়া শেষে বিচারপতি ওবায়দুল হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণা উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল এলাকার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট পর্যন্ত সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় দুই পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় অপেক্ষমাণ (সিএভি—কেস অ্যায়োটিং ভারডিক্ট) রাখা হয়। ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর সুবহানের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নয়টি অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়।
পাবনা জেলা জামায়াতের প্রতিষ্ঠাতা আমির সুবহান একাত্তরে দলটির কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সুবহান পাবনায় শান্তি কমিটির প্রথমে সাধারণ সম্পাদক ও পরে সহসভাপতি হন। ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সুবহানকে আটক করে। ২৩ সেপ্টেম্বর তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এখন পর্যন্ত তিনি কারাগারে আছেন।
অবরোধে নিহত এবং আহতের ক্ষতিপূরণ দিতে কেন খালেদা জিয়া, বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ ১৯ জনকে নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
বরিবার বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। কেরানীগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. শাহীনুর ইসলাম শাহীনের করা এই রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে দেওয়া আদেশ গতকাল সোমবার প্রকাশিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দিতে কেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বিকল্প ধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীসহ ১৯ বিবাদীকে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ জন্য আদালতের আদেশ অনুযায়ী (যদি ব্যাংক হিসাব জব্দ ও বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়) ওই ১৯ বিবাদীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণের অর্থ সংগ্রহের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তার কারণও জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।আদেশে ব্যাংক হিসাব জব্দ করে ক্ষতিপূরণের অর্থ আদায়ের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র, আইন ও পররাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ১৪৩ জনের প্রতি এ রুল জারি করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চার সপ্তাহের মধ্যে এর জবাব দিতে বলা হয়েছে।
২০ দলীয় জোটের অপর যে ১৭ নেতার ব্যাংক হিসাব জব্দ করার বিষয়ে রুল জারি করা হয়েছে তাঁরা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আবদুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহম্মদ, মির্জা আব্বাস, শমসের মবিন চৌধুরী, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আবদুল আউয়াল মিন্টু, রিয়াজ রহমান, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, রুহুল কবীর রিজভী, সালাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইবরাহিম।
রবিবার আদালত অসাংবিধানিক প্রাণঘাতী অবরোধ ও হরতাল কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না তার কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। ওই রুল ও আদেশের বিষয়ে গতকাল সংবাদমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, তার অতিরিক্ত আরো কয়েকটি রুল আদেশের কপিতে রয়েছে।
এসব রুল বিচারাধীন থাকাবস্থায় অসাংবিধানিক প্রাণঘাতী অবরোধ ও হরতাল রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
রিট আবেদনে ২০ দলীয় জোটের চলমান অবরোধ-হরতালের নাশকতার চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে হরতাল-অবরোধে সন্ত্রাস, নাশকতা বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানিতে আইনজীবীরা বলেছেন, এ পর্যন্ত ৭০ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে দগ্ধ হয়ে মারা গেছে ৪২ জন। কতিপয় রাজনৈতিক নেতার তথাকথিত প্রেস রিলিজের মাধ্যমে হরতাল বা অবরোধ ডাকা হচ্ছে। এতে করে শিক্ষা, ব্যবসা সারা দেশে স্থবির হয়ে পড়েছে। বাড়ির বাইরে নিরাপদ নয় কেউ। আইনজীবীরা তাদের বক্তব্যের সমর্থনে আদালতে ডকুমেন্ট দাখিল করেন এসময়।
কারাগারে আটক জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রায় বুধবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য এদিন দিন ধার্য করেন।
গত ৪ ডিসেম্বর জামায়াতের এই নায়েবে আমীরের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমাণ রেখে দেয় ট্রাইব্যুনাল।
গত ৩০ নভেম্বর আসামীপক্ষ তাদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। এর আগে গত ৫ নভেম্বর প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। এরপর ১৭ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে।
সুবহানের বিরুদ্ধে মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।
২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাওলানা সুবহানের বিরুদ্ধে হত্যা, গণহত্যা, আটক, নির্যাতন, লুণ্ঠনসহ ৯টি সুনির্দিষ্ট ঘটনার ভিত্তিতে অভিযোগ গঠন করা হয়।
ট্রাইব্যুনালের আদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সুবহানকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর থেকে কারাগারে আটক তিনি।
১ চট্রগ্রাম ১৮৮৮-৯৮ সালে- সি জি অ্যানেল ২ বাকেরগঞ্জ ১৯০৪-০৬ সালে- জে সি জ্যাক ৩ ফরিদপুর ১৯০৪-১৪ সালে-জে সি জ্যাক ৪ ময়মনসিংহ ১৯০৮-১৯ সালে-এফ এ স্যাকেল ৫ ঢাকা ১৯১০-১৭ সালে-এফ ডি এসকোলি ৬ রাজশাহী ১৭১২-২২ সালে-ডব্লিউ এইচ নেলসন ৭ নোয়াখালী ১৯১৪-১৯ সালে-ডব্লিউ এইচ টমসন ৮ ত্রিপুরা (কুমিল্লা) ১৯১৫-১৯ সালে-ডব্লিউ এইচ টমসন ৯ যশোর ১৯২০-২৪ সালে-এম এ মোমেন ১০ নদীয়া ১৯১৮-২৬ সালে-জে এম প্রিঙ্গল ১১ খুলনা ১৯২০-২৬ সালে-এল আর ফুকাস ১২ পাবনা-বগুড়া ১৯২০-২৯ সালে-ডনান্ড এফ সি ফেরসন ১৩ মালদহ ১৯২৮-৩৫ সালে-ডনান্ড এফ সি ফেরসন ১৪ রংপুর ১৯৩১-৩৮ সালে-এ সি হার্টলি ১৫ দিনাজপুর ১৯৩৪-৪০ সালে-এফ ও বেল ১৬ সিলেট ১৯৫০-৬৪ সালে-এন আহমেদ ১৭ খুলনা (শুধু সুন্দরবন) ১৯৪০-৫০ সালে-এস এ মজিদ এবং এম হক
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন কেন? প্রশ্নটির উত্তর অতি ব্যপক। সংক্ষেপে, সামাজিক মর্যাদা এবং আইনগত অধিকার রক্ষার জন্যই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা অতি জরুরী। রেজিস্ট্রেশন ব্যতিত আপনি আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিবাহ রেজিস্ট্রেশন একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে সাক্ষ্যগত মূল্য বহন করে। রেজিস্ট্রেশন ব্যতিত বিবাহ প্রমাণ করা কঠিন ফলে মেয়েদের প্রতারিত হবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় সবচেয়ে বেশী। দেনমোহর, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার নির্ণয়, সন্তানের পিতৃত্ব ইত্যাদি দাবীর ক্ষেত্রে বিবাহ রেজিস্ট্রিশন বা বিবাহের কাবিননামা আইনগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে কাবিননামার গুরুত্ব ব্যপক। কাবিননামায় বয়স উল্লেখ করতে হয় বিধায় বাল্য বিবাহ রোধও সম্ভব। এটি বিবাহিত ছেলে-মেয়ে উভয়ের ভবিষ্যত আইনগত অধিকার সংরক্ষণ করে। বিবাহ সম্পর্কে উভয় পক্ষ থেকেই যে কোন সময় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে, তখন কাবিননামা প্রমাণ পত্র হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে, আইনের দৃষ্টিতে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ, তাই সকল বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা আইনত আবশ্যক।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশন কি এবং কেন? বিবাহ রেজিস্ট্রেশন হচ্ছে সরকারিভাবে বিবাহকে তালিকাভুক্তি করা। সরকারের নির্ধারিত ফরমে বিবাহের তথ্যবলী দিয়ে এই তালিকাভূক্তি করতে হয়। তালিকাভূক্তি ফরমটিকে কাবিননামাও বলে। ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইন অনুযায়ী প্রতিটি বিবাহ সরকার নির্ধারিত কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রার দ্বারা রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। ২০০৫ সালের ৯ নং আইন দ্বারা ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) আইনের সংশোধনী আনা হয় এবং বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। উক্ত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজী বিবাহ সম্পন্ন হবার সাথে সাথেই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন অথবা তিনি ব্যতিত অন্য কেহ বিবাহ সম্পন্ন করলে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার বা কাজীর নিকট বিবাহের তথ্য প্রদান করতে হবে এবং কাজী উক্ত তথ্য প্রাপ্তির সাথে সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। যদি কেউ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের এসব বিধান লঙ্ঘন করেন তাহলে তার ২ (দুই) বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড বা ৩০০০ (তিন হাজার) টাকা জরিমানা বা উভয়দন্ড হতে পারে। আইন অনুযায়ী কেউ যদি রেজিস্ট্রেশন বিষয়ে ভুক্তভোগী হয়ে থাকেন তবে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। উল্লেখ যে, রেজিস্ট্রেশন না হলে বিবাহ বাতিল হয় না তবে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হবার সম্ভবনা থাকে।
খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও ১৮৭২ সালের খ্রিস্টান ম্যারেজ এ্যাক্ট অনুযায়ী খ্রিস্টানদের বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করা বাধ্যতামূলক। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রে হিন্দু পারিবারিক আইন অনুযায়ী হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের কোন বিধি বিধান নাই। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ক্ষেত্রেও এরূপ বিধান নাই। এসব ক্ষেত্রে ভবিষ্যত প্রয়োজনীয়তা কথা বিবেচনা করে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা করে রাখা যেতে পারে।
কখন এবং কিভাবে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়? ২০০৫ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিস্ট্রেশন) সংশোধিত আইন অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হবার সাথে সাথে বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। তবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ব্যতিত বিবাহ সম্পন্ন হলে ৩০দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রারের নিকট বিবাহ রেজিস্ট্রি করতে হয়। রেজিস্ট্রি করতে রেজিস্ট্রেশন সরকারি ফি দিতে হয়। দেনমোহরের পরিমানের উপর ভিত্তি করে রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারিত হয়। ধার্য্যকৃত দেনমোহরের প্রতি হাজার বা তার অংশবিশেষের জন্য ১০ টাকা হারে রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হয়। তবে রেজিস্ট্রেশন ফি এর মোট পরিমান ১০০ টাকার কম হবে না এবং ৪০০০ টাকার উপর হবে না। এই ফি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত এবং পরিবর্তন হয়ে থাকে। রেজিস্ট্রেশন ফি পরিশোধের দায়িত্ব বরপক্ষের।
আইন অনুযায়ী বিবাহের গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বা শর্ত যেমন, বর কনের বয়স, উভয়ের সম্মতি, দেনমোহের, তালাক প্রদানের ক্ষমতা ইত্যাদি পূরণ সাপেক্ষে কাজী বা নিকাহ রেজিস্ট্রার বিবাহ রেজিস্ট্রি করবেন। খ্রিস্টান বিবাহর ক্ষেত্রে যিনি বিবাহ সম্পাদন করবেন তিনিই বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করবেন। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবার পর কাজী উভয়পক্ষকে রেজিস্ট্রেশন ফরম বা কাবিননামার সত্যায়িত কপি প্রদান করবেন।
বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের সুফল-কুফল কি? বিবাহ রেজিস্ট্রেশন করলে আইনগত কিছু সুফল পাওয়া যায় কিন্তু রেজিস্ট্রেশন না করলে কুফলও রয়েছে অনেক
যেমন রেজিস্ট্রেশনের ফলে; ১) বর বা কনে পক্ষ উক্ত বিবাহ অস্বীকার করতে পারেনা এবং একে অপরের প্রতি সামাজিক ও পারিবারিক দায়-দায়িত্ব পালনে বাধ্য হয়। ২) স্বামী/স্ত্রী উভয়ে উভয়ের সম্পত্তিতে উত্তরাধিকার হতে পারে। ৩) স্ত্রী তার প্রাপ্ত দেনমোহার ও ভরণপোষণ আদায় বা দাবী করতে পারে। ৪) সন্তানের পিতৃত্ব দাবী/প্রমাণ করতে সহজ হয়। ৫) স্বামী দ্বিতীয় বিবাহর জন্য উদ্যোগী হলে স্ত্রী আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারে।
আর বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে স্বামী বা স্ত্রী’র আইনগত বৈধতা প্রমাণ করা কস্টসাধ্য, অনেক ক্ষেত্রে যায় না। রেজিস্ট্রেশন না হবার ফলে পুরুষ অথবা স্ত্রী উভয়ই আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত বা প্রতারিত হবার সম্ভাবনা দেখা দেয়। এবং রেজিস্ট্রেশন না করা আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধও বটে।
ভূমি জরিপ, দলিল সম্পাদন ও রেজিষ্ট্রশন সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট Ø ১৯০৮ সালের রেজিষ্ট্রেশন আইন (সংশোধনী ২০০৫ সহ) Ø ১৯৫৫ সালের প্রজাস্বত্ব বিধি Ø ১৮৭৫ সালের ভূমি জরিপ আইন নামজারী বা মিউটেশন সংক্রান্ত আইন Ø ভূমি ব্যবস্থাপনা ম্যানুয়েল, ১৯৯০ ডুবে যাওয়া জমি (সিকস্তি) ও জেগে ওঠা জমি (পয়োস্তি) Ø ১৮২৫ সালের বেঙ্গল এলুভিয়ন ও ডিলুভিয়ন রেগুলেশন খাস জমি বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ Ø ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন অকৃষি খাসজমি বন্দোবস্তের নীতিমালা Ø ১৯৯৫ সালের ৮ই মার্চে প্রকাশিত গেজেট সর্বচ্চো সিলিং বা জমি দখলে রাখার সীমাবদ্ধতা সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ল্যান্ড হোল্ডিং (লিমিটেশন) {১৫/৮/১৯৭২ সালে জারিকৃত প্রেসিডেন্ট আদেশ} ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত আইন Ø ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত ৩০.০৫.১৯৯৫ ইং তারিখে পাশকৃত সংশোধনী Ø ১৯১৩ সালের সরকারী পাওনা আদায় আইন বর্গাচাষ সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ ওয়াকফ সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৬২ সালের ওয়াকফ অধ্যাদেশ ইজমেন্ট বা সুখাধিকার সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৮২ সালের ইজমেন্ট রাইট এক্ট অগ্রক্রয় সংক্রান্ত আইন ১৯৫০ সালের স্টেট একুইজিশন এন্ড টেনান্সি এক্ট সম্পত্তি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত আইন Ø ১৯৮২ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল অধ্যাদেশ Ø ১৯৫০ সালের সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ত্ব আইন দখল সংক্রান্ত আইন Ø ১৮৭৭ সালে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন Ø ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি Ø ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (ধারা) Ø ১৯০৮ সালের তামাদি আইন (অনুচ্ছেদ) Ø ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অন্যান্য আইন Ø ষ্ট্যাম্প এক্ট, ১৮৯৯ Ø ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইন Ø ১৯৫৯ সনের ৬নং অধ্যাদেশ Ø ১৯৭২ সালের ৯৮ নং প্রেসিডেন্ট আদেশ Ø ১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্টের আদেশ নং ১৩৭ সূত্র: অবলম্বন
জমি সংক্রান্ত বিষয়াদির সাথে আমরা প্রায়শ “ভায়া দলিল” শব্দ যুগলের কথা শুনে থাকি। কিন্ত অনেকই জানিনা “ভায়া দলিল” কি এবং কাকে বলে?
সহজে উত্তর হচ্ছে, জমির মূল বা আদি দলিলকে ভায়া দলিল বলে। আর জমির মালিকানা নিরুপনের জন্য ভায়া দলিল একটি অপরিহার্য উপাদান।
দরুন, আপনি একখন্ড জমি আলম সাহেব থেকে ক্রয় করলেন, যার দলিল নং ২০০। আলম সাহেব উক্ত জমি ক্রয় করলেন সুফিয়া খাতুন থেকে, যার দলিল নং ১৩০। এখানে আপনার সৃজিত দলিল নং ২০০ এর ভায়া দলিল নং হচ্ছে ১৩০। অর্থাৎ ভায়া দলিল হচ্ছে মূল দলিল যা থেকে সৃষ্টি হয় পরের দলিল সমূহ।
আপনি যখন কোন জমি ক্রয় করবেন তখন অবশ্যই জমির বিক্রেতা থেকে ভায়া দলিল চেয়ে নিবেন। সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে একটি নির্দিষ্ট ফরমে সার্চ করে উক্ত দলিলের সঠিকতা যাচাই করে নিবেন। আর উক্ত ভায়া দলিল থেকে সৃষ্ট পরবর্তী প্রতিটি দলিলের দাগ নাম্বার ও জমির হিস্যা ঠিক আছে কিনা জেনে নিবেন। যদি সন্দেহ হয় তাহলে রেজিস্ট্রি অফিসে সংরক্ষিত দলিলের সাথেও মিলিয়ে দেখতে পারেন।
বিয়ের কয়েক মিনিট আগে হবু স্ত্রীর নাম ভুলে যাওয়ায় এক পাকিস্তানি যুবককে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। রেহাই পাননি তার হবু স্ত্রীও। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের হালে।
আসল ব্যাপার হচ্ছে, জুবায়ের খান (২৮) ব্রিটেনে থাকার মেয়াদ বাড়ানোর জন্য এই ভুয়া বিয়ে আয়োজন করেছিলেন। তিনি ঘটক খালিক দাদ খানের মাধ্যমে কনে হিসেবে হাঙ্গেরিয়ান তরুণী বিয়াটা জিলাগিকে (৩৩) নির্বাচন করেন। যথাসময়ে বিয়ে নিবন্ধন করতে গিয়ে কনের নাম ভুলে যান জুবায়ের। খালিক দাদ খানের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করে কনের নাম জানতে চান তিনি। এটি খেয়াল করেন নিবন্ধকরা। পরে ঘটকসহ তিনজনকেই আটক করা হয়।
তদন্ত করে দেখা যায় আটককৃতরা ভুয়া বিয়ের আয়োজন করেছিলেন। এটি অভিবাসী আইনের লঙ্ঘন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় পূর্ব লন্ডনে বসবাসরত জুবায়েরকে ২০ মাস ও জিলাগিতে ১৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে হাল ক্রাউন আদালত। অন্যদিকে ঘটক খালিদকে দেয়া হয়েছে ২০ মাসের কারাদণ্ড । সূত্র: টেলিগ্রাফ (ইত্তেফাক)।